দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের ক্ষতিপূরণের স্টাইলে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের একশো দিনের কাজের টাকাও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠল নদিয়ার হাঁসখালিতে। কাজ না করেই টাকা পেয়ে গেছেন তাঁরা।
হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ না করা সত্ত্বেও দলীয় নেতাকর্মীদের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অভিযোগের আঙুল উঠেছে পঞ্চায়েত প্রধানের দিকে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। তিনি ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়ূরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। তিনি ময়ূরহাট দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী যোগমায়া মজুমদার পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এরপরে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যোগমায়া মজুমদার ওই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। কয়েক মাস আগে মোটরসাইকেল চেপে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার জানান, তাঁর নামে প্রথম থেকে জব কার্ড থাকলেও তিনি কোনওদিন একশো দিনের কাজ করেননি। কয়েক দিন আগে ব্যাঙ্কের পাস বই আপডেট করবার সময় দেখতে পান তাঁর অ্যাকাউন্টে এক হাজার একশো নব্বই টাকা জমা পড়েছে। এটা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। ব্যাঙ্ক থেকেই জানতে পারেন কী ভাবে ওই টাকা জমা পড়েছে। তারপর থেকেই সরকারি দফতরে অভিযোগ জানান থাকেন। তিনি ওই এক হাজার একশো নব্বই টাকা ফেরত দিতে চান বলেও জানিয়েছেন।
পঞ্চায়েত প্রধানের মদতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের। তাঁর আরও অভিযোগ, দলের নেতা-কর্মীরা টাকা পাচ্ছে। যাঁরা কাজ করলেন না তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে।
ময়ূরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামপদ ঘোষের বক্তব্য, “সুপারভাইজার একশো দিনের মাটি কাটার কাজ করান। সুপারভাইজারই সব কিছু দেখভাল করেন। যাঁরা ন’নম্বর ও ছ’নম্বর ফর্ম অফ ফিলআপ করেন তাঁরাই কাজ পান। বিষয়টি তদন্ত করছি।”
বেশ কিছু দিন ধরে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল উমফানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা না দিয়ে ক্ষতিপূরণের কুড়ি হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের। এই টাকা পেয়েছেন পাকাবাড়ি ও দোতলা বাড়ির মালিকরা। কোথাও টাকা পেয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রীও। এবার সেই কাজ না করে দলীয় কর্মীদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই।