দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন বাংলা সিনেমা ও সিরিয়ালের এক ডজন তারকা। পার্ণো মিত্র, ঋষি কৌশিক, রূপাঞ্জনা মিত্রদের বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নিয়ে তোপ দাগলেন অভনেত্রী অপর্ণা সেন। একই সঙ্গে বাংলার শাসকদলকে ‘ডুবন্ত জাহাজ’ বলেও কটাক্ষ করলেন।
তাঁর নতুন ছবি ‘ঘরে বাইরে আজ’-এর প্রিমিয়ারে দিল্লি গিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও পরিচালক। সেখানেই সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে একটি সাক্ষাৎকারে অপর্ণা বলেছেন, “তৃণমূলের ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে এখন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বিজেপি-র দিকে যাচ্ছেন। এটা ক্ষমতার নেশা। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই ক্ষমতার দিকে যাওয়া।” একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “এঁরাই একসময়ে সিপিএমের সঙ্গে ছিলেন। বামেদের ভরাডুবির পর এঁরাই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। আবার এখন যখন মমতা জমি হারাচ্ছেন, তখন এঁরা চলে যাচ্ছেন বিজেপি-তে।”
বহুদিন ধরেই সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব অপর্ণা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে মমতার পাশে যে বিদ্বজনদের বৃত্ত দেখা যেত, তারও অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু কখনই তাঁকে তৃণমূল হতে দেখা যায়নি। এই সাক্ষাৎকারেও অপর্ণা বলেছেন, “আমি সিপিএমের জমানায় নন্দীগ্রাম গণহত্যার প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু কখনই তৃণমূল হয়ে যাইনি। সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ করেছিলাম। তখনও মমতার সমর্থক হইনি। ইস্যু ভিত্তিক প্রিতিবাদ করেছি। রাস্তায় নেমেছি।”
বাংলায় বিজেপি-র উত্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপর্ণা। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিকল্প খুঁজে না পেয়েই বাংলার মানুষ বিজেপি-র দিকে ছুটছে। এটা আমার কাছে আতঙ্কের।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাই বাম-কংগ্রেস একজোট হয়ে বিরোধী শূন্য জায়গাটা ভরাট করুক।” তাঁর বড় হওয়া এবং রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে যে বাম মতাদর্শ কাজ করে তা তিনি একাধিকবার বলেছেন। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।
মাস দেড়েক আগেই একটি সাক্ষাৎকারে জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চটে যাওয়া প্রসঙ্গে অপর্ণা বলেছিলেন, “মমতা নিজের কবর নিজে খুঁড়ছেন।” তারপর ভাটপাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি। সংঘর্ষের এলাকা এবং আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলেছেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমি ভাটপাড়ায় গিয়ে কথা বলেছি মানুষের সঙ্গে। ওখানকার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-এর বিরুদ্ধে মানুষ অভিযোগ করছেন। সেই ভিডিয়ো রয়েছে আমার কাছে।”