দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই তাপমাত্রা খানিকটা করে বাড়তে শুরু করেছিল রাজ্যে। শীতের আমেজ থাকলেও সেই শিরশিরানিটা ছিল না। কিন্তু শনিবার এক ধাক্কায় অনেকটা কমল তাপমাত্রা। আগামী কিছুদিন এই আমেজ থাকবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ শীতের আমেজেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন রাজ্যবাসী।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি কম। এদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯৪ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৪২ শতাংশ। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামীকালও তাপমাত্রা একই রকমের থাকবে। সোমবার থেকে ফের একটু বাড়তে পারে তাপমাত্রা। তবে তা ১৫ ডিগ্রির মধ্যেই থাকবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে তাপমাত্রা। তার ফলে শীতের আমেজের মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন রাজ্যবাসী, এমনটাই পূর্বাভাস আলিপুরের।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার দাপট এখন কিছুটা কম। দিনকয়েক আগেও যেমন ভোর হলেই স্তরে স্তরে জড়িয়ে ধরছিল কুয়াশা, তা এখন অতটা নেই। দৃশ্যমানতা বেড়েছে। এখন ভোরের দিকে হাল্কা কুয়াশা থাকছে। তারপর পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ। তাই ঠান্ডার আমেজ থাকছে দিনভর। আগামী কয়েকদিনও এমনই আবহাওয়া থাকবে বলে জানা গেছে।
পুরুলিয়া, বীরভূম, দুই মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রামে শৈত্যপ্রবাহ চলছে দিনকয়েক ধরেই। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ঠান্ডা আরও জাঁকিয়ে পড়বে এই জেলাগুলিতে। পাহাড়ে ঠান্ডা বাড়বে আগামী কয়েকদিনে। ফলে ইতিমধ্যেই পাহাড়ে ভিড় করেছেন বহু পর্যটক। এমনিতেই বড়দিন ও বর্ষবরণ ঘিরে উৎসবের আমেজ। সেই আমেজ যেন এই ঠান্ডায় আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই অবশ্য দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে ঘূর্ণাবর্ত জট পাকিয়েছে। মলদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপের সম্ভাবনা আছে। সপ্তাহের শেষে বৃষ্টি হতে পারে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়ে। বিহার, উত্তরপ্রদেশে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। সপ্তাহের শেষে বরফ পড়তে পারে ভূস্বর্গে। বিহার, ঝাড়খণ্ডে আবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে।