দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে চালু হয়ে গেছে ক্লাস। স্মার্ট ফোনের সাহায্যে কখনও মিট, কখনও ক্লাসরুম অ্যাপে পড়াশোনা করছে ছাত্রছাত্রীরা। তারা যখন এগিয়ে চলেছে তখন সরকারি স্কুলগুলি, বিশেষ করে গ্রামীণ স্কুলগুলিতে সার্বিক ভাবে চলছে শুধুমাত্র মিড-ডে মিলের চাল, ডাল আর আলু বিতরণ। এই অবস্থায় পড়ুয়াদের ক্লাস নেওয়া শুরু হল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার পশ্চিম চক্রের মেনাডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে অন্য ভাবে।
এই স্কুলের শিক্ষক মিসকিন মণ্ডল নিজের উদ্যোগে কচিকাঁচাদের পড়াশোনা চালু রাখতে উদ্যোগী হলেন আনলক ২ পর্যায়ে। গ্রামীণ এলাকায় অনেকেরই স্মার্ট ফোন নেই। তাই অ্যাপের মাধ্যমে পড়াশোনা করার প্রশ্নই উঠছে না। পরিকাঠামোর এই অভাব থাকায় সমস্যা হচ্ছে ঠিকই তবে এর মধ্যেও পুরো দমে না হোক কিছুটা হলেও যে পড়াশোনা চালু রাখা সম্ভব তা তিনি দেখিয়ে দিলেন। নিজের খরচায় ওই শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে একটি করে পেন ও খাতা বিতরণ করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন ক্লাসের জন্য আলাদা ভাবে বাড়ির কাজ দিচ্ছেন যাতে পড়াশোনা চালু রাখতে পারে তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, পনেরো দিন পরে সেই খাতা স্কুলে জমা দিয়ে যেতে হবে অভিভাবকদের। এর ফলে কচিকাঁচাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। মিড-ডে মিলের চাল-ডাল নিতে যখন আসতেই হচ্ছে তখন সঙ্গে করে খাতা নিয়ে এলেই হল।
মেনাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ছবি সাহা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিসকিন মণ্ডল যে উদ্যোগ নিয়েছেন সব স্কুলের শিক্ষকদের এই ভাবে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি নিজের খরচায় প্রত্যেক পড়ুয়াকে একটি করে পেন ও খাতা দিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাড়ির কাজও দিয়ে দিচ্ছেন। এই ভাবেই পড়াশোনা চালু থাকবে।” স্কুলে যেতে সকলে হয়তো ভালবাসে না। অনেকে ফাঁকিও দেয়। তবে এত দিন ধরে বাড়িতে থেকে পড়ুয়ারাও কিছু করতে চাইছে। তাই নতুন করে পড়াশোনা চালু হওয়ায় বেশির ভাগই খুব খুশি।
মিসকিন মণ্ডল বলেন, “শুধু আমাদের এই মেনাডাঙ্গা বিদ্যালয়ে নয়, আমি এলাকার অন্তত দশটি বিদ্যালয়ে নিজের টাকায় খাতা ও পেন বিতরণ করছি। আমার উদ্দেশ্য একটাই – ছেলে মেয়েরা যেন এই মহামারীর মধ্যেও পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।”