দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজোড়া লকডাউনের ফলে বদল দেখা দিচ্ছে সামাজিক ছবিতেও। অবস্থার চাপে পড়ে শুধুমাত্র পেটের দায়ে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। বারাসতের কাছারি মাঠের বাবলু চাওয়ালা পুরোপুরি পেশা বদল না করলেও চায়ের দোকান খুলে বিক্রি করছেন করোনার মাস্ক।
নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন বাবলু চাওয়ালা। পদবী বলতেই চান না। বহু বছর ধরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতে কাছারি মাঠের পাশে রাস্তার পাশে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন বাবলু চাওয়ালা। একটি মহামারী যে চায়ের বিক্রি এভাবে বন্ধ করে দেবে তা ভাবেননি কোনও দিন। করোনা সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে লকডাউন চালু হওয়ার জন্য বেশির ভাগ লোকই এখন রাস্তায় দরকার ছাড়া বেরচ্ছেন না এমনকি চায়ের দোকানে গিয়ে চা পর্যন্ত খাচ্ছেন না। তাই সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে বাবলুদের মতো অনেকের। তাই চায়ের দোকানে করোনার মাস্ক বিক্রি করছেন বাধ্য হয়েই।
লকডাউনের আগে বারাসত কাছারি মাঠের আশপাশের অঞ্চল সব সময়ই জমজমাট থাকত। লকডাউনের পরে শুনশান সেই জনবহুল কাছরি মাঠ এলাকা। মোটর ভেহিকেলসের কোনও লোক আসছেন না। আশপাশে যে কয়েকটা সরকারি অফিস রয়েছে সেখানেও কর্মচারীদের আনাগোনা নেই। ফলে বাবলুর চায়ের দোকানের এখন কার্যত মাছি তাড়ানোর অবস্থা।
বাবলু বলেন, “এখন চায়ের বিক্রি প্রায় নেই। সংসার তো চালাতে হবে। তাই এখন করোনা ভাইরাস ঠেকাতে যে মাক্স ব্যবহার করা হয় সেই মাক্স এবং হ্যান্ড গ্লাভস বিক্রি করছি। কোনও ভাবে সংসার তো চালাতে হবে।”
এটা অবশ্য কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। জলপাইগুড়ি জেলাতেও দেখা গেছে চিরকাল ফোটোগ্রাফি করে আসা কয়েক জন লোক নিরুপায় হয়ে এখন মাছ বিক্রি করছেন। টোটোচালকরা অনেকেই ফেরি করছেন আনাজ।