
শেষ আপডেট: 28 September 2018 16:55
জলপাইগুড়ির পাতকাটা ঘোষপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে রোজ সাইকেলে চেপে প্র্যাকটিস করতে যেতেন স্বপ্না। মাত্র ১৩ কিলোমিটারের এই পথ যেতে সময় লাগত ২০ মিনিট। শুক্রবার সেই পথই পেরাতে লাগল প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাতারে কাতারে মানুষ। সবার হাতে ফুল। মুখে স্বপ্নার নামে জয়ধ্বনি।
সোনা জয়ের পর এই প্রথম গ্রামের মাটিতে পা রাখলেন স্বপ্না। এসেই প্রথমে গেলেন বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনে সাই-এর ক্যাম্পে। এখানেই ছোট থেকে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য প্রাণপাত করেছেন স্বপ্না। সেখানে তাঁকে সম্বর্ধনা জানান সাই-এর ক্যাম্প ইনচার্জ ওয়াসিম আহমেদ। তারপরে গ্রামের গণ্যমান্য মানুষেরা এসে সম্বর্ধনা জানান স্বপ্নাকে।
সেখান থেকে হুড খোলা জিপে চড়ে বাড়ি ফিরলেন স্বপ্না। তিনি বাড়ি না ঢোকা পর্যন্ত গ্রামের লোকেরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। সবাই রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই শুরু হয় বাজি পোড়ানো। সেই সঙ্গে চলে উদ্দাম নাচ। বাড়ি এসেই প্রথমে মায়ের সঙ্গে বাড়ি লাগোয়া কালী মন্দিরে যান স্বপ্না। এখানেই তো মেয়ের সাফল্যের জন্য হত্যে দিয়ে পড়েছিলেন মা বাসনা বর্মণ। তারপর সবাইকে প্রনাম করেন। একে একে মিষ্টিমুখ করান বাড়ির সকলে।
সংবাদ মাধ্যমের সামনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না স্বপ্না। কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বললেন, " আমাকে দেখতে এত লোক জড়ো হয়েছে। আমাকে যে এত লোক ভালোবাসে, তা আগে জানতাম না।" কোথাও যেন সেই কান্নার সঙ্গে খানিকটা অভিমান আর অনেকটা কষ্ট ঝড়ে পড়ল। সকলকে ধন্যবাদ দিলেন স্বপ্না।
আরও কয়েকটা দিন গ্রামের বাড়িতে থাকবেন স্বপ্না। কিছু অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ আছে। তবে কটা দিন পেট ভরে মায়ের হাতের ডাল-ভাত খেয়ে যেতে চান স্বপ্না। তারপর তো আবার ছুটতে হবে নতুন লক্ষ্যে।