দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুবনেশ্বরে পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠক হয়েছে শুক্রবার। কিন্তু সে জন্য মঙ্গলবারই ওড়িশায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তা নিয়েই তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এদিন অধীরবাবু বলেন, “আমরা তো কবে থেকে বলছি দিদি- মোদী আঁতাত রয়েছে। দেখলেন না, লোকসভা ভোটের পরই কেমন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ছুটেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সার্জেন্টের (পড়ুন অমিত শাহ) সঙ্গে দেখা করেন মমতা।” এখানেই না থেমে অধীরবাবুর আরও বলেন, “তার পর থেকেই তো দেখতে পাচ্ছেন সারদা-নারদা মামলার তদন্ত আর এগোচ্ছে না। রাজীব কুমার মামলা নিয়েও সিবিআইয়ের কোনও তৎপরতা নেই”।
এদিন এক জনসভা থেকে একইরকম খোঁচা দেন সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী চারদিন ধরে পুরী-ভুবনেশ্বরে পড়ে রয়েছেন কেন? উনি হয়তো ভাবছেন মানুষ কিছু বুঝবে না। সবাই সব বুঝতে পারছে। কীসের সেটিংয়ের চেষ্টা চলছে কারও অজানা নয়।
যদিও এদিন পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে অমিত শাহ-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা কোনও বৈঠক হয়নি। ওই বৈঠকের পর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজের জন্য গিয়েছিলেন, অমিত শাহ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও মমতা। সেখানেও আলাদা করে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই খবর।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১২ জানুয়ারি কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রাজভবনে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনও বাম-কংগ্রেস আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি-তৃণমূল কোনওরকম আঁতাত হচ্ছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু লক্ষণ পরিষ্কার। তা হল, চিটফান্ড ইত্যাদি তদন্তের গতি বা তৎপরতা দৃশ্যত কিছু কম দেখা যাচ্ছে। আর বাম-কংগ্রেস কৌশলগত ভাবেই তা হাতিয়ার করতে চাইছে এবং এ ব্যাপারে রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে। তাদের বোঝাতে চাইছে যে তৃণমূলের বিজেপি বিরোধিতা অনেকটাই লোক দেখানো। আসলে ভিতরে ভিতরে পরস্পর পরস্পরকে তাল দিয়ে চলছে।
অধীর-সুজনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে তৃণমূল এখনও পর্যন্ত দলীয় তরফে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে দলের মুখপাত্ররা ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, বাংলায় রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে এই দুই দল। তাই মরিয়া হয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা করছে।