দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের জন্মলগ্ন থেকে এই প্রথম বড় ধরণের কোনও অস্ত্রোপচার করে নজির গড়ল বাঁকুড়ার ছাতনার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। ন্যূনতম পরিকাঠামোর মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক মহিলার স্তন থেকে টিউমার বাদ দিলেন শল্যচিকিৎসক অলি দাস অধিকারী। দুই সহকারীকে নিয়ে দু’ঘণ্টার চেষ্টায় সফল ভাবে তিনি অস্ত্রোপচার করেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডাক্তারি পরিভাষায় এই অস্ত্রোপচারের নাম ‘মডিফায়েড ব়্যাডিক্যাল মাস্টেকটমি’।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে লক ডাউনের মধ্যে সপ্তাহ তিনেক আগে স্থানীয় ঘোড়ামৌলি গ্রামের বাসিন্দা আরতি বাউড়ি বুকে যন্ত্রণা নিয়ে ছাতনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে আসেন। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরে জানা যায় তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। লকডাউন পরিস্থিতিতে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সঙ্গতিও তাঁদের নেই।
এই হাসপাতালে সাধারণ ভাবে গলস্টোন, কিডনি স্টোন, হার্নিয়া ও অ্যাপেনডিক্সের মতো অপারেশন হয়। অন্য ধরনের অপারেশন করার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। তবে রোগীর সমস্যা এবং তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার বিশ্বজিৎ দে বলেন, “আগে অন্য ধরণের অস্ত্রোপচার হলেও এই প্রথম ক্যানসারের অপারেশন হল। সংশ্লিষ্ট রোগী ভাল আছেন ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।”
এলাকার লোকজন বলছেন এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘কাঁচের স্বর্গ’ ছায়াছবির কথা। ১৯৬২ সালে তরুণ মজুমদার পরিচালিত ছবিতে দেখানো হয়েছিল গ্রামের হাসপাতালে কার্যত কোনও পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও হৃদযন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচার সফল ভাবে করেছিলেন এক চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের অবশ্য ডাক্তারি ডিগ্রি ছিল না। সেই হিসাবে দুটি ঘটনা এক নয়। তবে পরিকাঠামোর বিচারে এই দুই ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন ছাতনার মানুষ।