
শেষ আপডেট: 13 July 2020 06:24
লকডাউন পর্ব শুরু হওয়ার আগে তিনি নাইটির ব্যবসা করতেন। কলকাতা, রাঁচি, বোকারো, ধানবাদ প্রভৃতি জায়গায় পণ্য সরবরাহ করতেন। লকডাউন শুরু হতেই ঘোর অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়ায় তাঁর জীবন ও জীবিকা। পণ্য তৈরি করে তা বাইরে পাঠাতে পারছিলেন না । তাঁর কাজের উপরে আর যাঁরা নির্ভর করে থাকতেন তাঁদের জীবনও অনিশ্চয়তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
ঠিক সেই সময় সুধাংশু কুমার ভাবেন এই অবস্থায় চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। সংসারের হাল ধরতে তাই জীবিকা বদলে ফেলেন। বেশ কয়েক জনের সঙ্গে আলোচনা করে তেরোশোটি হাঁসের বাচ্চা কেনেন। শুরু করেন হাঁসের ব্যবসা। ইতিমধ্যে একশোটি হাঁস বিক্রি হয়ে গেছে। সামনে পুরুলিয়ার অন্যতম বড় উৎসব মনসা পুজো। সেই পুজোয় প্রচুর হাঁস বলি দেওয়া হয়। সুধাংশু কুমার আশায় বুক বেঁধেছেন, সেই সময় হাঁস বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন।
বিশাল একটি জায়গা ঘিরে তিনি গড়ে তুলেছেন হাঁসের পোলট্রি। সঙ্গে নিয়েছেন খুড়তুতো ভাইকে। সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় হাঁসের পরিচর্যা। হাঁসের থাকার জায়গার পাশেই ছোট্ট একটি জলাশয় খনন করে নিয়েছেন। খাবার খেতে খেতে হাঁসের দল পিলপিল করে ছুটে যায় সেই জলের দিকে। জল খেয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে খাবার খেতে।
কোনও সরকারি সাহায্য তিনি পাননি। ঋণের জন্য কয়েক বার ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন সেখানে ইতিবাচক কোনও সাড়া পাননি। তখন বাবার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগের কথা জানতে পেরে জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিন্দু কর্মকার তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লকডাউনে অনেকে যখন জীবিকা হারিয়ে পথে বসেছেন তখন নতুন করে পথচলা শুরু করেছেন সুধাংশু কুমার। পুঁজি হল কিছু করার ঐকান্তিক ইচ্ছা আর পরিশ্রম।