বাগনান কাণ্ড: পুলিশে ভরসা হারিয়ে মামার বাড়িতে যেতে চাইছেন ওই কলেজছাত্রী, আতঙ্কে পরিবার, বিক্ষোভ এবিভিপির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের উপর থেকে ভরসা হারিয়ে এবার বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়ি চলে যেতে চাইছে নিহতের কলেজ ছাত্রী মেয়ে। টাকা ও চাকরির টোপ দিয়ে পুলিশ যে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সেকথা তিনি আগেই বলেছিলেন। এবার তিনি বললেন বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়িত
শেষ আপডেট: 29 June 2020 07:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের উপর থেকে ভরসা হারিয়ে এবার বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়ি চলে যেতে চাইছে নিহতের কলেজ ছাত্রী মেয়ে। টাকা ও চাকরির টোপ দিয়ে পুলিশ যে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সেকথা তিনি আগেই বলেছিলেন। এবার তিনি বললেন বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়িতে চলে যেতে চান।
‘কথা না শুনলে’ পুলিশ নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন ওই ছাত্রী। এদিন তিনি জানান তাঁদের নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে তা রয়েছে আসলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কুশ বেরার বাড়ির কাছে। একে তৃণমূল নেতাদের হুমকি, তার উপরে পুলিশের চাপ – এই দুয়ের মাঝে পড়ে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই ছাত্রী। তিনি জানিয়েছেন আপাতত মামারবাড়িতে গিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা জানতে চেয়ে হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার সৌম্য রায়কে বার বার ফোন করা হলেও প্রথমে তিনি ফোন ধরেননি। পরে ফোন ধরে বলেন, "এখন আমি ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করব।"
যখন এই ঘটনা নিয়ে বারেবারে তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে আঙুল উঠছে তখন মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে বিজেপিও। এদিন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির সদস্যরা বাগনান থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা নিহতের পরিবারের সুরক্ষা দাবি করেন এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করতে থাকেন। কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও তাঁর মাকে হত্যার অভিযোগে তৃণমূল নেতা কুশ বেরা ও তার শাগরেদ এখন জেল হেফাজতে রয়েছে। নিহতের নিকট আত্মীয়কে কুশ বেরার যে আত্মীয় কাটারির কোপ মেরে গুরুতর আহত করেছিল সেই তন্ময় বেরা এখনও পলাতক।
আগেই বাগনান থানার আইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কলেজ ছাত্রী। তিনি বলেছেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দিয়েছেন বাগনান থানার আইসি। এজন্য কুড়ি লক্ষ টাকা এবং সরকারি চাকরির টোপও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাগনান থানার আইসি অমরজিৎ বিশ্বাস বলেছেন, “অনেক লোক অনেক অভিযোগ করতে পারে। আমার কিছু যায় আসে না।” ফোনে জেলার তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেছেন, “... যদি কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে তিনি থানায় অভিযোগ করতে পারেন। থানা অভিযোগ না নিলে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে যেতে পারেন। তিনিও অভিযোগ না নিলে আদালতে যেতে পারেন।”
আরও পড়ুন: বাগনান কাণ্ড: মামলা তোলার জন্য টাকা ও চাকরির টোপ দিচ্ছে পুলিশ, অভিযোগ নিহতের মেয়ের
গত মঙ্গলবার রাতে হাওড়ার বাগনানের গোপালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা কুশ বেরা গাছ বেয়ে ছাদে নেমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে যায়। চিৎকার শুনে তাঁর মা ছাদে চলে এলে ওই তৃণমূল নেতা ও তার শাগরেদ তাঁকে সেখান থেকে ঠেলে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। তাতে ওই ছাত্রীর মায়ের মৃত্যু হয়। পরের দিন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খাঁ থানায় বিক্ষোভ দেখান। পরে থানা অভিযোগ নেয় এবং পরে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে লঘু ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই তৃণমূল জানিয়েছে কুশ বেরা দলের কোনও পদে নেই। তার স্ত্রীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।