দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাগনান কাণ্ড নিয়ে এবার বিস্ফোরক নিহতের মেয়ে তথা কলেজছাত্রী। ওই ছাত্রীকে তৃণমূল নেতার ধর্ষণ থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন তাঁর মা। এদিন তিনি সরাসরি বাগনান থানার আইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দিয়েছেন বাগনান থানার আইসি। এজন্য কুড়ি লক্ষ টাকা এবং সরকারি চাকরির টোপও তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগনান থানার আইসি অমরজিৎ বিশ্বাস বলেন, “অনেক লোক অনেক অভিযোগ করতে পারে। আমার কিছু যায় আসে না।”
ওই ছাত্রী এদিন বলেন, “বাগনান থানার বড়বাবু আমাকে বলেন ‘তোমাকে চাকরি দিয়ে দেব, কুড়ি লাখ টাকা দিয়ে দিচ্ছি। তোমাদের কোনও চিন্তার কারণ নেই। তোমরা শান্তিতে থাক, তোমরা ভাল থাক।’ বাবাকেও বলে গেছে। আমার দাদারা ছিল প্রথম দিন থেকে। তারা আমাদের বাড়িতে যাতে না আসে সে জন্য আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ‘বলা হচ্ছে খারাপ স্টেপ নিতে বাধ্য হব। পুলিশি প্রহরা তুলে নেব।’ আমার ওই দাদা বিজেপি করে। তাছাড়া বাইরে বেরলেই অনেক টিটকিরি করছে ও হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্তরা বলেছে আমাকে অ্যাসিড মারবে। কুশ বেরার ছেলে বলছে, ‘আমার বাবা যখন জেলে গেছে তখন আমরা ওদের শেষ করে দেব।’ আমি খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছি। আমি চাই আমাকে সকলে সাহায্য করুক, সকলে আমার পাশে দাঁড়াক।”
পরে তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার তৃণমূল নেতা কাজল ভৌমিক ও আমাদের বিধায়ক রাজা সেন বাড়িতে লোক পাঠাচ্ছে বার বার। আমাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে। আমার বাবাকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” জেলার তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী অরূপ রায় ওই ছাত্রীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে অভিযোগ। এ কথা শুনে ওই ছাত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে কাজল ভৌমিক ও রাজা সেন ফোন ধরেননি।
ফোনে অরূপ রায় বলেন, “আমি ওই ছাত্রীকে নিয়ে আমি কিছু বলিনি। যা বলেছি সবই অভিযুক্তকে নিয়ে। যদি কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে তিনি থানায় অভিযোগ করতে পারেন। থানা অভিযোগ না নিলে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে যেতে পারেন। তিনিও অভিযোগ না নিলে আদালতে যেতে পারেন।”
গত মঙ্গলবার রাতে বাগনান গোপালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা কুশ বেরা গাছ বেয়ে ছাদে নেমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে যায়। অভিযোগ, চিৎকার শুনে তাঁর মা ছাদে চলে এলে তাঁকে সেখান থেকে ঠেলে ফেলে দেয় ওই কুশ বেরা ও তার শাগরেদ। তাতে ওই মহিলার মৃত্যু হয়। পরের দিন দুপুরে বিজেপির দুই নেতানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খাঁ থানায় যান। তারপরে থানা অভিযোগ নেয় এবং পরে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পরে দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর সময় নিহতের নিকট আত্মীয়কে কাটারির কোপ মারে কুশ বেরার আত্মীয় তন্ময় বেরা। তারপর থেকে সে পলাতক। পুলিশের সামনে এই ঘটনা ঘটার পর থেকে নিহতের পরিবারের লোকজন আতঙ্কের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এর আগেও মুখে অ্যাসিড মারা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ওই ছাত্রী। এদিন তিনি অভিযোগ করলেন সরাসরি পুলিশ ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে।