দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পরিবারের অনটনই তাঁর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিটি বিষয়ে দারুণ নম্বর পেলেও খরচের কথা ভেবে বাধ্য হয়েই কলা বিভাগে ভর্তি হতে হয়। এ বারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কলা বিভাগেও সফল হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ২ নম্বর অঞ্চলের মালম্বা গ্রামের পাপড়ি হাজরা। উচ্চ মাধ্যমিকে তিনি ৪৯৩ নম্বর পেয়েছেন। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভুলে এখন তিনি হতে চান শিক্ষিকা।
পাপড়ি এবার বসন্তপুর এসএস শিক্ষা নিকেতন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কলা বিভাগে পরীক্ষা দিয়েও প্রতিটি বিষয়ে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ মানের কাছাকাছি। পাপড়ির বাবা সুশান্ত হাজরা একটি মুদিখানার দোকানে কাজ করেন। মা বিন্দু হাজরা গৃহবধূ। পরিবারে অভাব তাঁদের নিত্য সঙ্গী। সে কথা জানেন পাপড়ি নিজেও। তাই অনেক ভেবেচিন্তে মাধ্যমিকের পরেই তিনি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেছিলেন। তখন থেকেই শুরু করেছিলেন শিক্ষিকা হওয়ার সাধনা। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে সফল পাপড়ি।
পাপড়ি বলেন, “আমার পড়াশোনার ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষকরা খুব সাহায্য করেছেন৷ এ ছাড়া মা-বাবাও আমাকে সব সময় উৎসাহ দেয়।”
বসন্তপুর এসএস শিক্ষা নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দনকুমার রেজ বলেন, “আর্থিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে কম খরচে কী ভাবে পড়াশোনা করে যাওয়া যায় সে বিষয়ে পাপড়িকে দিশা দেখানো হচ্ছে। তাকে আগামী দিনে প্রয়োজন মতো সাহায্য করা হবে।” পাপড়ির বাবা সুশান্ত হাজরা চান তাঁর মেয়ের পড়াশোনা করে যাক। এ ব্যাপারে তিনি সহৃদয় মানুষজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাধ্যমিকে এবার এই জেলার মেমারির অরিত্র পাল রাজ্যে প্রথম হয়েছে। এ ছাড়া গোটা জেলায় এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের জয়জয়কার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও পাপড়ির মতো অনেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে সফল হয়েছেন। পাপড়ির সাফল্যের কথা শুনেছেন মেমারির বিধায়ক। তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে সফল হওয়ার উদাহরণ আছে ঠিকই তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পরিস্থিতির চাপে মাঝপথেই পড়াশোনায় ইতি পড়ে যায় অভাবের মধ্যে বেড়ে ওঠা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের। সরকারি প্রকল্প রয়েছে। মেধাবীদের জন্য ঋণের উপায়ও রয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে শিক্ষার জন্য ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু কী ভাবে যোগাযোগ করতে হয়, কী ভাবে তদারকি করতে হয় সে কথা জানা নেই বলে অনেকে সেই সুযোগ নিতে পারেন না।