দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতসকালে তমলুকের একটি গ্রামের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন একটি পাথরের মূর্তি। আর তাই নিয়ে উৎসাহে কোনও কমতি নেই টুলা গ্রামের বাসিন্দাদের। কেউ বলছেন অলৌকিক ঘটনা। কারও মতে সাক্ষাৎ ঈশ্বর দর্শন হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মূর্তিকে পুজো করাও শুরু হয়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ওই গ্রাম। ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা। ফুল-চন্দন-ধূপ জ্বালিয়ে হয়েছে পুজো। প্রণামী বাক্সে জমা পড়েছে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামেরই বাসিন্দা আনন্দ মোহন সাহু প্রথমে পুকুরে কিছু একটা ভাসতে দেখেন। কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেছেন ঠাকুরের মূর্তির মতো দেখতে পাথরের একটি বিগ্রহ ভাসছে পুকুরে। কিন্তু আনন্দবাবু একা নাকি ওই মূর্তি জল থেকে তুলতে পারেননি। শেষে বাড়ি থেকে কয়েকজনকে ডেকে আনেন। তারপর মূর্তি তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে রাখেন।
সারা গ্রামে খবর চাউর হতে বেশি সময় লাগেনি। কানাকানি খবর পৌঁছতেই ওই মূর্তি দেখার জন্য আনন্দবাবুর বাড়িতে উপচে পড়ে ভিড়। গ্রামবাসীদের অনেকের কথায়, পাথরের মূর্তি তো জলে ভাসার কথা নয়। ভারী বলে ডুবে থাকার কথা। অতএব এই মূর্তি যখন ভেসে উঠেছে তাহলে নিশ্চয় ভগবানের তেমনই ইচ্ছে। স্বেচ্ছায় দেখা দিয়েছেন ঈশ্বর। যদিও এ কথার বৈজ্ঞানিক কোনও ভিত্তি নেই। তবে নতুন বিগ্রহের পুজোয় মেতেছেন গ্রামবাসীরা।
বেশ আড়ম্বরের সঙ্গেই চলছে পুকুর থেকে খুঁজে পাওয়া ওই পাথরের মূর্তির। তবে তা কোন দেবতার সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু জানা যায়নি এখনও। তবে অনেকের মতে এই মূর্তি প্রাচীন যুগের নিদর্শন হতে পারে। আশেপাশে এলাকায় কোনও এক্সপিডিশিন অর্থাৎ নৃতত্ত্ব বা প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কোনও খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মূর্তি চোরাই জিনিস কিনা সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বা এই মূর্তি গ্রামেরই কারও বাড়ির পূর্ব পুরুষের সম্পত্তি কিনা সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।