দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: কুলটির নিয়ামতপুরে বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়ার দু’মাসের বেশি সময় পরে সেখানে সরেজমিনে তদন্তে নামল এসটিএফের একটি দল। সঙ্গে ছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আশপাশ ঘুরে দেখে নমুনা সংগ্রহ করেন। ওই ঘরের ভিতর থেকেও নমুনা সংগ্রহ করেন। ঘরের ভিতরের বিভিন্ন জিনিস পরীক্ষা করে দেখেন।
এই অস্ত্র কারখানা নিয়ে আসানসোলে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল। বেশ কয়েক বার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দফতরে স্মারকলিপি দিয়েছে বিজেপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও রাজনীতি থামছিল না।
গত ২৯ মে আসানসোলের কুলটির নিয়ামতপুরের নুরনগরে অস্ত্র কারখানার হদিস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখন বেশ কয়েক জন গ্রেফতার হয় কিন্তু মূল পাণ্ডাকে এখনও ধরা যায়নি। কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ি যৌথ ভাবে অভিযান করেছিল। সেই অভিযানে নিয়ামতপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত নুরনগরে বিশাল এক অস্ত্র তৈরি কারখানার হদিস পায় তারা। উদ্ধার করা হয় বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
ঘটনাস্থল থেকে পুরোপুরি তৈরি একশোটি অস্ত্র, অর্ধেকের বেশি তৈরি সাড়ে তিনশোটি অস্ত্র, একটি লেদ মেশিন ও ঝালাই করার একটি যন্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তার আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা জনৈক সৌকত আনসারিকে গ্রেফতার করে কলকাতার পুলিশের এসটিএফ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিয়ামতপুরের ওই অস্ত্র তৈরির কারখানার কথা জানতে পারে পুলিশ।
লকডাউনের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের পোশাকে নিয়ামতপুর এলাকায় সন্ধান চালাতে শুরু করে ছিলেন এসটিএফের এক আধিকারিক। এ ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য পেয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাহায্যে পুলিশ নুরনগর এলাকায় ওই কারখানাটি ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকে তারা গ্রেফতার করে ধানবাদের ঝরিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইসরার আহমেদ, মহম্মদ আরিফ, ধানবাদের হরিণার বাসিন্দা সুরজ সাউ ও উমেশ কুমার এবং ধরনার বাসিন্দা অরুণকুমার ভার্মাকে।
ঘটনার সূত্রপাত সাত বছর আগে। নুরনগরের তংগলিতে দোতলা বাড়ি বানিয়ে থাকতে শুরু করেন স্থানীয় রেলপারের বাসিন্দা মহম্মদ আসরফ খান ওরফে অফসর। তাঁর জেনারেটরের ব্যবসা ছিল। বেশির ভাগ সময় তিনি অবশ্য দিল্লিতেই থাকতেন। ঘটনার এক বছর মতো আগে আসরফের ঘর মাসিক পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় মহম্মদ ইসরার নামে এক ব্যক্তি। পরে আসরফের বাড়ির খালি জায়গায় নিজের টাকায় সে ঘর বানিয়ে নেয়। তখন তার বাড়ি ভাড়া দু’হাজার টাকা কমিয়ে মাসিক তিন হাজার টাকা করা হয়। আসরফকে নাকি তখন বলা হয়েছিল ওই ঘরে লেদ মেশিনের ওয়াশার বানানো হবে। তাতে আসরফ আপত্তি করেননি। পুলিশ মনে করছে এলাকাটি ঘনবসতি পূর্ণ হওয়ায় কারও মনে কোনও সন্দেহ হয়নি।
পুলিশ জেনেছে এই কারখানা থেকে অর্ধ নির্মিত সাত মিলিমিটার পিস্তল বিহারের মুঙ্গেরে যেত। সেখানে পিস্তলের ট্রিগার লাগিয়ে অস্ত্র সম্পূর্ণ করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হত।