দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙতে বসেছিল। মেনে নিতে পারেনি প্রেমিক। সোজা প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গুলি করে দিয়েছিল। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। সেই শুভলগ্না চক্রবর্তী খুনের মামলার রায় ঘোষণা হল বুধবার। শ্রীরামপুরে অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশান (সেকেন্ড) কোর্টের বিচারক মহানন্দ দাস প্রেমিক সুলতান আলিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আগামী কাল হবে সাজা ঘোষণা।
২০১৮ সালের ১২ জুলাই রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কোন্নগরের অলিম্পিক মাঠ এলাকার বাড়িতেই বসেছিলেন শুভলগ্না এবং তাঁর বাবা-মা। ওই সময়ে তাঁদের বাড়িতে যান কোন্নগর করাতি পাড়ার বাসিন্দা সুলতান। দরজা খুলতেই সোফায় বসে থাকা শুভলগ্নার দিকে এগিয়ে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন শুভলগ্নার বাবা তুষার চক্রবর্তী। পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে বাধা দিতে যান শুভলগ্নার মা শুভ্রা চক্রবর্তী। গুলি চালিয়েই তুষার বাবু এবং শুভ্রাদেবীকে মারতে থাকে সুলতান। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন শুভলগ্না। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভলগ্না এবং সুলতানের। ২০১৪ সালে রেজিস্ট্রি করে বিয়েও করেন তাঁরা। তবে সুলতান ও শুভলগ্নার পরিবার সে খবর জানত না। কারণ, শুভলগ্নার পরিবার প্রথম থেকেই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই রেজিস্ট্রির কথা গোপন করেছিলেন তাঁরা। এলাকাবাসীর মতে, শুভলগ্না এই সম্পর্ক থেকে বেরোতে চাইছিলেন। সামাজিক সম্মানের কথা ভেবেই কোন্নগর পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তুষার চক্রবর্তীর মেয়ে শুভলগ্না সম্পর্কে ছেদ টানলেও মেনে নেননি সুলতান। যেখানেই তরুণীর বিয়ে ঠিক হতো সেখানেই পৌঁছে যেত ইমারত দ্রব্যের কারবারি এই যুবক। জানিয়ে দিত তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে শুভলগ্নার। খুনের কয়েক মাস আগে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ছবিও পোস্ট করেন ফেসবুকে। কলকাতার শ্যামবাজারে বিয়ে ঠিক হয়েছিল শুভলগ্নার। সেখানেও সুলতান পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন শুভলগ্নার বাবা। এখন দেখার বৃহস্পতিবার কী সাজা ঘোষণা করে আদালত।