দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিকাঠামো মজবুত করতে দ্রুত উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বেসরকারি ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এগিয়ে আসতে আহ্বান করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গারামপুরের পরে এবার সেব্যাপারে তৎপর হল হলদিয়া বন্দর হাসপাতালও। এখানে তৈরি হচ্ছে বিশেষ আইসোলেশন রুম।
আজ শনিবার সকালে হলদিয়া বন্দরে যে সব জাহাজ ভিড়েছে সেই সব জাহাজের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সানহেডে যে সব জাহাজ রয়েছে সেইসব জাহাজের নাবিক ও সমস্ত কর্মীর উপরে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে আট শয্যার বিশেষ আইসোলেশন রুম। এর গেটও আলাদা করা হচ্ছে।
এরাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তিন হলেও সারা দেশে এই সংখ্যা ২৯০ ছাড়িয়ে গেছে। তাই অন্য রাজ্য থেকে আসা সব লরির চালক ও হেল্পারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। বন্দর থাকায় হলদিয়ায় অন্য রাজ্য থেকে বহু গাড়ি আসে। বিদেশি জাহাজও ভেড়ে। এখানে যাতে কোনও ভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না হয় সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা কোনও ভাবে বেড়ে গেলেও যাতে পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য জেলা ভাগ করে সচিবদের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতো শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসকের দফতরে করোনা ভাইরাস নিয়ে বৈঠক করতে যান শ্রম দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সৈয়দ আহমেদ বাবা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ, জেলা পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল ও জেলার অন্য আধিকারিকরা।
বৈঠকে শেষে শ্রম দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সৈয়দ আহমেদ বাবা জানান, জেলায় করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে।
রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তিন জন হলেও জ্বর সর্দি ও কাশি উপসর্গ রয়েছে এবং বিদেশের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে দেখা গেলে তাঁদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। এক এক জনকে ১৪ দিন করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখতে হলে সরকারি হাসপাতালে স্থান অকুলান হতে পারে। তাই দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি পুরসভা পরিচালিত মাতৃসদনেও ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।