দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বেলভিউ হাসপাতালের একটি সূত্রে খবর, আংশিক ভেন্টিলেশন চালু হয়েছে অভিনেতার। অন্য একটি অংশের মতে ইনটিউবেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে সৌমিত্রবাবুকে। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না অভিনেতা।
বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে বোর্ডের আওতায় সৌমিত্রবাবুকে রাখা হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, আপাতত এয়ারওয়ে প্রোটেক্ট করার জন্য ইনটিউবেশন সাপোর্ট চালু হয়েছে অভিনেতার। বিকেল ৩টে নাগাদ এই সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শরীরে শ্বাসের ঘাটতি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর শরীরে নতুন করে নিউমোনিয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। সৌমিত্রবাবুর এই কো-মর্বিডিটির সমস্যা বেশি ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের। এই কারণেই চিকিৎসায় সেভাবে সাড়া দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর জ্ঞান প্রায় নেই বললেই চলে।
হাসপাতালের একটি সূত্রে খবর, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বুঝেই সেটা নেওয়া হবে। তবে তার আগে আগামীকাল সৌমিত্রবাবুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন চিকিৎসকরা। তারপরেই এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর প্লাজমাফেরেসিস অর্থাৎ শরীরে প্লাজমা পরিবর্তন করে নতুন প্লাজমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেটা নিয়েও পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত তিনদিন ধরে সৌমিত্র চট্টোপাধায়ের মস্তিষ্কের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার অনেক অবনতি হয়েছে। সেটাই এখন সবথেকে বেশি চিন্তার কারণ। কোভিড এনসেফেলোপ্যাথি বাড়ছে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের। চেতনাও কমে আসছে মাঝেমাঝে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্টেরয়েড ও অন্যান্য চেষ্টা সত্ত্বেও সৌমিত্রবাবু চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না।
এছাড়া সৌমিত্রবাবুর প্লেটলেট বেশ কমে গেছে। একইসঙ্গে তাঁর রক্তে ইউরিয়া ও সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। প্লেটলেট বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। যদিও তাঁর সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে। শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের থেকে বেশি অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না অভিনেতাকে।
বেশ কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই মস্তিষ্কের স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দেয় অভিনেতার। ফের একবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। এই বিষয়ে দেশের অনেক বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিয়েছেন বেলভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এমনকি বিদেশেও অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তারপরেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে অভিনেতার।