দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: হাড়োয়ায় এক করোনা আক্রান্ত কার্যত সামাজিক বয়কটের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা নাকি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে বসিরহাটে। সেখানে দুই স্বেচ্ছাসেবী নিঃস্বার্থ ভাবে সেবা করছেন করোনায় আক্রান্তদের। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ভর্তি করাচ্ছেন হাসপাতালে। হাড়োয়ার ব্যক্তির খবর পেয়ে তাঁরাই বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত।
করোনা আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যে এখন কলকাতার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। জেলার বসিরহাটে মহকুমায় এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশো ছাড়িয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত করোনায় দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় বসিরহাট কলেজের অস্থায়ী কর্মচারী সুবীর সরকার এবং বসিরহাটেরই এক ভূমিপুত্র এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক কর্মী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদল নিজেদের শামিল করেছেন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে। তাঁরা নিজেরা পিপিই কিট পরে করোনা আক্রান্তদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন।
হাড়োয়া ব্লকের সদরপুর গ্রামের এক ব্যাঙ্ককর্মী করোনা পজিটিভ হলে তাঁকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সমস্যায় পড়ে যান তাঁর পরিবারের লোকজন। এই খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয়ে যান ওই দুই সমাজসেবী। তাঁরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।
কখনও তাঁরা যাচ্ছেন করোনা পজিটিভের বাড়িতে। খোঁজ নিচ্ছেন পরিবারের। আবার কখনও আক্রান্তদের কাছে যাচ্ছেন। তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করছেন। বসিরহাট শহরে এখনও পর্যন্ত অন্তত দশ জন আক্রান্তকে তাঁরা বসিরহাট জেলা হাসপাতাল ও গোপালপুরের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বসিরহাট শহর জুড়ে যখন লকডাউন ঘোষণা করেছে ব্যবসায়ী সমিতি তখন দিনের বেলায় তো বটেই, রাতেও নিজেদের মোটরসাইকেল নিয়ে সাহায্য করতে ছুটছেন বসিরহাট শহরের বিভিন্ন জায়গায়। যেখানে পরিবারের লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সেখানেও ভরসা তাঁরাই।
বসিরহাট পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডে বছর বাষট্টির এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁর পাশে দাঁড়ান ওই দুই করোনাযোদ্ধা। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়। তখনও পরিবারের পাশে ছিলেন তাঁরা। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাঝবয়সী এক মহিলাকে রক্ত পরীক্ষা করার করার জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কখনও আবার তাঁরা শ্মশানেও যাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে।
নানা কারণে অনেক জায়গায় কাউন্সিলরদের পাশে পাচ্ছেন না এলাকার লোকজন। কোথাও তাঁরা আটকে কোয়ারেন্টাইন জোনে। তখন মানুষের ভরসা এই দু’জন।