দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: দ্বাদশ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল ওই তরুণী।
শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার মণীন্দ্রনগর গ্রামে। সূত্রের খবর, বেলডাঙা শ্রীশচন্দ্র বিদ্যাপীঠের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ( ১৮ ) গত ১০ নভেম্বর ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মনু মণ্ডল বাড়ি থেকে প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এই কাজে মনুকে সাহায্য করে তার পরিবারের সদস্য অমর বিশ্বাস, ভোলা বিশ্বাস ও শক্তি মণ্ডল। তারপর ধর্ষণ করে তার মাথায় সিঁদুর দিয়ে দেয় মনু। ওই ছাত্রীর বাড়িতে জানিয়ে দেওয়া হয় মনুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে।
এই খবর পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বাড়ির লোক ও আত্মীয় স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য মনুর বাড়ি গেলে গ্রামের অন্য বাসিন্দারা তাদের সেখান থেকে বিক্ষোভ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেয়। তারপর বাড়ির মেয়েকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে বেলডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই ছাত্রীর পরিবার। এই অভিযোগের পরে শুক্রবার রাতে মনু-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছাত্রীকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, শনিবার সকালে ছাত্রীকে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তার আগেই মনুকে বাদ দিয়ে বাকি দুই অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এই কথা শুনেই নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দেয় ওই ছাত্রী। বাড়ির লোকেরা যতক্ষণে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর।
এই ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় বেলডাঙা থানার পুলিশ। ছাত্রীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মনু মণ্ডল পুলিশি হেফাজতেই আছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছাত্রীর বাড়ির লোকের দাবি দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা করুক পুলিশ।