দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: বাংলার পাহাড়ে এখন কনকনে ঠান্ডা। হাওয়া অফিস জানিয়েছে ডিসেম্বরের শুরু থেকে শৈত্যপ্রবাহ চলবে। কিন্তু এর মধ্যেই পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরগরম।
শনিবার বিকেলে পাহাড়ে পা রাখলেন বিমল গুরুংয়ের ছায়াসঙ্গী রোশন গিরি। আড়াই বছর আত্মগোপন করে থাকার পর এই প্রথম দার্জিলিং জেলায় পা রাখলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা রোশন। শনিবার সমর্থকদের তুমুল উচ্ছ্বাসের মধ্যে বাগডোগরা বিমানবন্দরের পা রাখেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন যুব মোর্চার নেতা দীপেন মালে।
বিমানবন্দরে নেমেই বিনয় তামাং–অনিত থাপাদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রোশন। বলেন, বিনয়-রোশনরা পাহাড়কে ধ্বংস করেছেন। একই সঙ্গে রোশনের ঘোষণা, আগামী ৬ ডিসেম্বর পাহাড়ে পা রাখছেন বিমল গুরুং।
২০১৭ সালে পৃথক রাজ্যের দাবিতে লণ্ডভণ্ড হয় দার্জিলিং। পুলিশ কর্মী সহ প্রাণ যায় অনেকের। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সরকারি অফিস, বন বাংলো। তারপরই ইউএপিএ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় বিমল-রোশনদের বিরুদ্ধে।
এরপর টানা কখনও সিকিমে কখনও দিল্লিতে লুকিয়ে ছিলেন বিমল–রোশন। আড়াল থেকেই কখনও ভিডিও বার্তায় কখনও অডিও বার্তায় অনুগামীদের নির্দেশ দিয়েছেন এই দুই নেতা। আড়ালে থেকেই কার্যত পাহাড়ের রাশ হাতে রেখেছেন। সমর্থন করে একের পর এক নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীদের জিতিয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযুক্ত রোশন গিরি এভাবে প্রকাশ্যে পুলিশি ঘেরাটোপে পাহাড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পঞ্চমীর দিন হঠাত্ বিমল গুরুংয়ের দেখা মেলে কলকাতায়। তারপর সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়ে দেন এনডিএ-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ। তিনি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান।
এরপর বিনয়-অনিতদের নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হয়তো বার্তা দিয়েছেন গুরুংদের সঙ্গে সংঘাতে না যেতে। কিন্তু বিনয়-অনিতরা সাফ জানিয়ে দেন, কে বিমল গুরুং? কে রোশন গিরি? এর মধ্যে মিছিল পাল্টা মিছিলে সরগরম হয়েছে পাহাড়। এদিন পৌঁছে গেলেন রোশন গিরি। এরপর আসছেন গুরুং। তারপর পাহাড়ের কী পরিস্থিতি হয় সেটাই দেখার।