দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: করোনা আবহে যখন পরিচ্ছন্নতাই মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে, আধ ঘণ্টা অন্তর হাত ধুতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা তখন রাস্তার উপরে জমে জঞ্জালের স্তূপ। ব্যতিক্রমী কোনও ঘটনা নয়। নদিয়ার চাকদহের একুশটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই একই ছবি। এই অবস্থায় পুরপ্রশাসনের উপরে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত পুর এলাকার বাসিন্দা।
পুর এলাকার লোকজনের অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাস্তার ধারে দিনের পর দিন ধরে জমে রয়েছে জঞ্জালের স্তূপ। অন্তত এক মাসের পুরনো ময়লা জমে রয়েছে চাকদহের বিভিন্ন জায়গায়। পুরসভার কোনও ভ্যাট নেই। তাই রাস্তার উপরে জমে থাকা দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
পুরসভা অবশ্য গত ন’বছরের কথা না বলে তার আগের ৩৪ বছর নিয়ে পড়ে রয়েছে। তাদের বক্তব্য গত ৩৪ বছরে এখানে কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য ক্ষমতায় এসেছে অনেক দিন হয়ে গেল। তারপরেও কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড কেন নেই সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছে। এই পরিস্থিতিতে চাকদহ পুরসভার প্রশাসক দীপক চক্রবর্তী রুটিন আশ্বাস দিয়েছেন, “সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি মিটে যাবে।” ঠিক কত দিনের মধ্যে সমস্যা মিটবে সে কথা অবশ্য তিনি বলেননি।
চাকদহ বেশ পুরনো শহর। নদিয়ার চাকদহ পুরসভাও প্রায় একশো বছরের পুরনো। এখানে ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে। জনসংখ্যা লক্ষাধিক। পুরসভা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাজার, দোকান, স্কুল ও কলেজ। এই সমস্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। শহরে কোনও ভ্যাট না থাকার জন্য বাধ্য হয়েই বাড়ির সমস্ত নোংরা রাস্তায় পাশে ফেলে যান এলাকাবাসীরা। পাশাপাশি সবজি বাজার থেকেও ফেলা হয় পচা জিনিসপত্র। যার ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জঞ্জালের স্তূপ।
এলাকার লোকজন বলছেন, জঞ্জালের বহর এতটাই বেড়ে গেছে যে রাস্তার অর্ধেকটাই এখন নোংরা ও আবর্জনার দখলে। এমনিতেই করোনার সংক্রমণ যে ভাবে গোটা রাজ্যের সঙ্গে নদিয়াতেও বেড়ে চলেছে তাতে চাকদহ জেলার মধ্যে একেবারে প্রথমে চলে এসেছে। একদিকে করোনার আশঙ্কা, অন্যদিকে বিপুল জঞ্জাল নিয়ে আতঙ্ক। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে চিন্তিত পুর বাসিন্দারা। তাঁরা চাইছেন অবিলম্বে এর একটা সুরাহা হোক। চাকদহের পুর প্রশাসক অবশ্য অবিলম্বে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন।