দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার উচালনে এক চালকল কর্মীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠল। ওই চালকলের এক অংশীদারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। মৃতের নাম লিপিকা সাহা। তাঁর বয়স ২৬ বছর মতো।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ধৃতের নাম শঙ্কর জানা। তার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার দক্ষিণ লক্ষ্মীনারায়ণপুরে। শুক্রবার গভীর রাতে মাধবডিহি থানার দিঘিরকোণ এলাকায় একটি মাংসের দোকানের পিছন থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ধৃতকে সাত সাত দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত জেলা মুখ্য বিচারক।
বছর দেড়েক আগে শঙ্কর ও তার স্ত্রী লিপিকা সাহা ওই চালকলে কাজে যোগ দেন। মিলের শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরে তাঁরা থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই মিলেরই শর্মিলা বাঙাল নামে এক কর্মী কোনও কারণে চাল নিতে লিপিকার ঘরে যান। বেশ কয়েক বার ডাকাডাকির পরও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ঘরের ভিতরে ঢোকেন তিনি। ঘরের খাটে কম্বল চাপা অবস্থায় লিপিকাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন মিলের অন্য শ্রমিকদের ডাকেন তিনি। তাঁরা এসে কম্বল সরিয়ে লিপিকাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ আসে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। শনিবার বর্ধমান পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের পরে তাঁর দেহ আপাতত সেখানেই রাখা হয়েছে। পুলিশ লিপিকার বাপের বাড়িতে খবর দিয়েছে।
শঙ্করের খোঁজ শুরু হয়। মিলের গেটম্যান জানান, বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ কাউকে কিছু না বলে অভিযুক্ত শঙ্কর মিল থেকে বেরিয়ে গেছে। ঘটনার বিষয়ে মিলের অন্যতম অংশীদার অভিজিৎ মণ্ডল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, বর্তমানে ওই চালতলে আর কাজ করতে রাজি ছিলেন না লিপিকা। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য চলছিল।
মাধবডিহি থানার এক আধিকারিক জানান, খুনের উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে তা জানা যাবে।