দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিকাগো যাত্রা ভঙ্গ হয়েছিল কয়েক মাস আগেই। আর সেই যাত্রাভঙ্গ নিয়ে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাও আবার বেলুড়মঠের মাটিতে, স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছর পূর্তির মঞ্চে।
এ দিনের বক্তৃতায় মমতা বলেন, “আমি শিকাগো যেতে চেয়েছিলাম। অশুভ শক্তির চক্রান্তের জন্য যেতে পারিনি। রামকৃষ্ণ মিশনের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও যেতে পারিনি। আমি দুঃখ পেয়েছি। ব্যথা পেয়েছি। আমাদের যেতে না দেওয়ার পিছনে কী কারণ আমার জানা আছে। রামকৃষ্ণ মিশনকেও থ্রেট দেওয়া হয়েছিল। ওনারা বলতে পারবেন না। কিন্তু এ ভাবে কাউকে রোখা যায় না।”
কিন্তু কে বা কারা থ্রেট করেছিল রামকৃষ্ণ মিশনের মতো বিশ্ববন্দিত একটা প্রতিষ্ঠানকে?
পর্যবেক্ষকদের মতে, নাম না করলেও মমতার ইঙ্গিত বিজেপি-র দিকে। সাম্প্রতিক অতীতে শুধু তো শিকাগো সফর নয়, মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক সফর বাতিল হয়েছে। যাত্রা শুরুর নির্ধারিত দিনে বাতিল করেন চিন সফর। চিনের হাই কমিশন তখনও পর্যন্ত বৈঠকের সূচি জানায়নি। তাই সময় নষ্ট করতে সেখানে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বিদেশ সফর নয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। আমন্ত্রণ জানানোর পর প্রোটোকলের অজুহাতে তা বাতিল করা হয়। সেই সময়ই শাসক দলের নেতারা বলেছিলেন,এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছে দিল্লির শাসক দলই।
এ দিনের গোটা বক্তৃতায় বারবার বিবেকানন্দের পথে হিন্দু ধর্ম চর্চার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমরা হিন্দু ধর্মের ব্যাখ্যা নেব বিবেকানন্দের কাছে। অন্য কারও কাছে না।” এ দিন স্বামীজীর বাণী উদ্ধৃত করে মমতা বলেন, “তুমি দেশ শাসন করতে পারো। আমি জুতো সেলাই করতে পারি। তুমি খুন করলে সাজা হবে না, আর আমি আম চুরি করলে ফাঁসি হবে, তা হতে দেব না।” সেই সঙ্গে কটাক্ষ করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “কন্যাকুমারী তো আপনাদের ছিল। কেউ দখল করেছে। কোনদিন দেখব বেলুড়ও দখল করে নিয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বক্তৃতা করেন বিজেপি-র ‘হিন্দুত্বের রাজনীতি’র বিরুদ্ধে, এ দিনও এক বক্তৃতা করলেন শুধু নাম মুখে না এনে। সহিষ্ণুতার হিন্দু ধর্ম এবং তাকে নিয়ে অসহিষ্ণুতার রাজনীতির বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মমতা। বলেন, ‘কে কী খাবে, কী পড়বে তা কেন অন্য কেউ ঠিক করে দেবে। আমি আসার সময় দেখছিলাম বেলুড়ে একটা বাজার আছে। কত কিছু বিক্রি হচ্ছে। কই কারোর তো কোনও অসুবিধা হচ্ছে না!” মমতার এই রামকৃষ্ণ মিশনের মঞ্চে যাওয়াকে, সংখ্যাগুরু ভাবাবেগ নিজের পক্ষে ধরে রাখার চেষ্টা বলেও মনে করছেন অনেকে। বক্তৃতার শেষে, অনুষ্ঠান মঞ্চে বেলুড়মঠের মহারাজের হাতে রহড়ার ‘বিবেক তীর্থ’-এর জন্য ১০ কোটি টকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।