দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই রমরমিয়ে চোলাইয়ের ঠেক চলছিল রায়গঞ্জের পশ্চিম বোগ্রাম খালপাড়া এলাকায়। সেখানে বহিরাগতদের আনোগোনা প্রত্যেক দিন বেড়েই চলছিল। মানা হচ্ছিল না সামাজিক দূরত্বের বিধিও। তাতে এলাকার অনেকেরই মনেই শঙ্কা হচ্ছিল করোনা সংক্রমণের। তাঁরা সতর্ক করলেও কেউই তাতে কান দিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেই ঠেক মঙ্গলবার ভেঙে দিলেন গ্রামের মহিলারা।
কয়েক দিন ধরে প্রতিবাদ করার পরে সোমবার গ্রামের জনা পাঁচেক মহিলা প্রতিবাদ জানাতে যান। তখন উল্টো তাঁদেরই মারধর করা হয়। তারপরে আজ সদলবলে সেই ঠেকে গিয়ে হাজির হন গ্রামের বহু মহিলা। আগেই অবশ্য যথাসম্ভব বোতল সঙ্গে নিয়ে পালায় মদ্যপ ও মদ বিক্রেতারা। চোলাইয়ের ড্রামও তারা লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
পশ্চিম বোগ্রাম এলাকার মহিলারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মদের আসর অবশ্য ভেঙে দিতে পেরেছেন। যতটা চোলাই উদ্ধার করেছেন তা তুলে দিয়েছেন স্থানীয় থানায়। এলাকার বাসিন্দা অঞ্জলি মণ্ডল বলেন, “চারদিকে করোনা হচ্ছে বলে লকডাউন চলছে। কিন্তু খালপারে লোকজন প্রত্যেক দিন মদের আসর বসাচ্ছে। বহুদিন ধরেই ওখানে মদের আসর বসে। কিন্তু লকডাউনের সময় বারবার বলা হলেও ওরা শুনছে না। প্রতিবাদ করতে গিয়ে কাল আমরা মার খেয়েছি। আমার হাতের শাঁখা-পলাও ভেঙে দিয়েছে ওরা। তাই আজ আমরা সকলে একসঙ্গে ঠেক ভেঙে দিই। মদের ড্রাম অবশ্য ওরা আগেই লুকিয়ে ফেলেছিল।”
এলাকার লোকজন মনে করছেন যে এমন হামলা হতে পারে সেই আন্দাজ করে চোলাই বিক্রেতা আগেই মদের ড্রাম বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও খালের জলে লুকিয়ে তারপরে গা ঢাকা দিয়েছে। যদিও এর পরেও খালের ধারের ঝোপ থেকে বেশ কিছু বোতল ও ছোট ড্রামে চোলাই উদ্ধার করেছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুমন দেবনাথ বলেন, “এখানে আজ গ্রামের মহিলারা এসে চোলাইয়ের ঠেক ভেঙে দিয়েছেন। গ্রামের মানুষ ওঁদের পক্ষেই রয়েছেন।” দেশজুড়ে লকডাউন চলায় এখন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবই বন্ধ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে যদিও সেই নিয়ম মানা হচ্ছিল না এখানে। লোকজন কাছাকাছি বসে দেদার মদ খাচ্ছিল। মদের আসর থেকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।