দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে চরম সমস্যায় উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ২৯ বছরের ক্যানসার আক্রান্ত বন্দনা ও তাঁর পরিবার। ৯ বছরের মেয়ের জন্য বাঁচতে চান বন্দনা। কিন্তু চিকিৎসার কোনও পথ পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। স্বামী ও বাবা – উভয়েরই ব্যবসা বন্ধ। রায়গঞ্জে রেক্টাম ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। লকডাউনে বাইরে যাওয়ার পথও বন্ধ। কী করবেন সেকথা ভেবে উঠতে পারছেন না তাঁর নিকট আত্মীয়রা।
রায়গঞ্জের বারোদুয়ারি এলাকার বাসিন্দা বন্দনা তরফদার রজক। তাঁর বাপের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি কাছাকাছি। স্বামী পাপ্পু রজক বাড়ি লাগোয়া একটা চায়ের দোকান চালাতেন যা এখন লকডাউনের ফলে বন্ধ রয়েছে৷ বন্দনার বাবা সুনীল তরফদারের নার্সারি রয়েছে। তিনি বাড়িতে গাছের চারা তৈরি করে তা বিক্রি করেন। সেই ব্যবসাও আপাতত বন্ধ লকডাউনের জন্য৷ বন্দনা রেক্টাম ক্যানসারে আক্রান্ত। দু’বছর আগে মুম্বইয়ে টাটা ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা করাতে শুরু করেছিলেন তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেনি তাঁর পরিবার৷
পরে টাকার জোগাড় করে মুম্বই টাটা ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী কলকাতার একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা করায় পরিবার৷ তাতে ভালই ছিলেন বন্দনা কিন্তু লকডাউনের মধ্যে ক্যানসারের যন্ত্রণা আবার শুরু হয়েছে৷ রায়গঞ্জে রেক্টাম ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। অনেক চেষ্টায় শিলিগুড়িতে নিয়ে গিয়ে অঙ্কলজিস্টের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে জানা যায় দ্রুত অপারেশন করাতে হবে বন্দনার। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় তিন লক্ষ টাকা। নিরুপায় বন্দনার স্বামী ও বাবা বাড়িতে ফিরে এসেছেন। পাপ্পু এখন তাঁর বন্ধ চায়ের দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে চেনা-জানা লোক দেখলেই সমস্যার কথা বলে সাহায্যের জন্য তাঁদের অনুরোধ করছেন। আশার কথা শোনাতে পারছেন না কেউই। সকলেই বলছেন এখন লকডাউনের ফলে তাঁরা নিজেরাই সমস্যায় আছেন।
বন্দনার বাবা নিরুপায় হয়ে বাড়িতে বসে শুধু চোখের জল ফেলে চলেছেন। আর্তি করছেন যাতে তাঁর মেয়েকে বাঁচাতে কেউ পাশে দাঁড়ান। উপযুক্ত চিকিৎসা করালে বন্দনার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বন্দনা দু'চোখের জল কোনও রকমে আটকে বলছেন, “আমার মেয়েটা তো আমাকে ছাড়া থাকতেই পারে না। আমার চিকিৎসার কি কোনও ব্যবস্থা হবে? আমি কি বাঁচব?”
পরিবারের লোক তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও দিয়েছেন যাতে সহৃদয় মানুষজন তাঁদের সাহায্য করতে পারেন।
নাম: Bandana Tarafdar Rajak, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 3717108004352, আইএফএসসি কোড: CNRB0003717
চাইলে তাঁর স্বামী পাপ্পু রজককে ফোন করা যেতে পারে ৯৫৪৭০১৫৪১৮ নম্বরে।