রাহুল সিনহা বাদ পড়লেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে বাংলার দুই নতুন মুখ রাজু বিস্ট ও অনুপম
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির সর্বভারতীয় কমিটিতে থেকে বাদ পড়়লেন রাহুল সিনহা। এর আগের কমিটিতে রাহুল সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা রাহুলকে সরিয়ে সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে বাংলা থেকে তুলে আনলেন নতুন মুখ--বোলপুর
শেষ আপডেট: 26 September 2020 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির সর্বভারতীয় কমিটিতে থেকে বাদ পড়়লেন রাহুল সিনহা। এর আগের কমিটিতে রাহুল সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা রাহুলকে সরিয়ে সর্বভারতীয় সম্পাদক পদে বাংলা থেকে তুলে আনলেন নতুন মুখ--বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা। সেই সঙ্গে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টকে সর্বভারতীয় স্তরে মুখপাত্র করা হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির বহু পুরনো নেতা রাহুল সিনহা। বস্তুত রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলায় এক সময়ে রাহুলের অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদে দীর্ঘ সময় ছিলেন তিনি। যদিও দলকে নির্বাচনী সাফল্য এনে দিতে পারেননি রাহুল। তিনি নিজেও একাধিক বার লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়ে পরাস্ত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে দলকে ঝাঁকুনি দিতেই সঙ্ঘ পরিবার থেকে দিলীপ ঘোষকে তুলে এনে বিজেপি সভাপতি পদে বসিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাহুলকে তখনই সর্বভারতীয় সম্পাদক করা হয়। যাতে রাজ্য নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ঠিক থাকে এবং কোনও রেষারেষির পরিস্থিতি তৈরি না হয়। লোকসভা ভোটের পর রাজ্য সংগঠনে দিলীপ ঘোষ এখন প্রতিষ্ঠিত নেতা। এই পরিস্থিতিতেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়লেন রাহুল।
বিজেপির অনেকের মতে, এর দুটি অর্থ হতে পারে। কোনও কারণে রাহুলের উপর হয়তো খুশি নন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আবার এও হতে পারে যে দেবশ্রী চৌধুরী-বাবুল সুপ্রিয়র মতো রাহুলকে সময় মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতি মন্ত্রী করা হতে পারে।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টের উপর বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে খুশি তার ইঙ্গিত অনেক দিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। দলের এই তরুণ সাংসদ কর্মঠ ও সাংগঠনিক কাজে পারদর্শী বলেই দিল্লির কাছে বার্তা রয়েছে। তা ছাড়া উত্তরবঙ্গে বিজেপির কর্মী সমর্থকদেরও একটা বার্তা দেওয়া জরুরি ছিল। কারণ, উত্তরবঙ্গে লোকসভা ভোটে প্রায় ষোলো আনা আসনেই বিজেপি জিতেছে।
তবে অনুপম হাজরাকে সর্বভারতীয় সম্পাদক করায় শুধু বিজেপি নয়, রাজ্য রাজনীতির অনেকেই বিষ্মিত। কারণ, রাজ্য নেতারাই অনেকে বলেন অনুপমের মতিস্থির নেই। তা ছাড়া ফেসবুক ও সোশাল মাধ্যমে মাঝে মধ্যেই তিনি আলটপকা যে সব মন্তব্য করে তা নিয়ে দলকেও বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়। রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রথমে যাঁরা ঝুঁকি নিয়েছিলেন অনুপম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। লোকসভা ভোটেও তাঁকে ভাল আসন দেওয়া যায়নি। হতে পারে সেই কারণেই পুরস্কার পেলেন তিনি।