দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ বিজেপিতে দিলীপ ঘোষ জমানা শুরু হওয়ার পর তিনি ক্রমশই কোণঠাসা। অলঙ্কার বলতে ছিল, কেন্দ্রীয় সম্পাদকের পদ। কিন্তু শনিবার বিকেলে সেটাও চলে যাওয়ার পর ক্ষিপ্ত বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করে ফেলবেন।
এদিন রাহুল সিনহা বলেন, "বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে আমি আমি দলের সৈনিক হিসেবে সেবা করে যাচ্ছি। আর আজ তৃণমূলের নেতারা আসছে বলে আমায় সরতে হল। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না।"
তিনি আরও বলেন, "পার্টি যে পুরস্কার আমায় দিল তার পক্ষে বা বিপক্ষে আমি কিচ্ছু বলতে চাই না। শুধু এটুকু বলব, ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা জানিয়ে দেব।"
এরপরই গুঞ্জন উঠেছে, রাহুল সিনহার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী? তিনি কি এবার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন ছেড়ে ৩০,বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দিকে পা বাড়াবেন? যদিও সে বিষয়ে তিনি কিছুই খোলসা করেননি। দাদার পদ চলে যাওয়ায় রাহুল ঘনিষ্ঠরাও মুষড়ে পড়েছেন। ডালহৌসী পাড়ার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বলেন, "রাহুল সিনহা দুর্দিনে বিজেপি করা লোক। এটা তাঁর প্রতি সুবিচার হল না!"
যদিও অনেকের মতে, রাহুল সিনহার পারফরম্যান্স জিরো। বিজেপির অন্দরে অনেকে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া রয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবটা বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তা ছাড়া বিজেপির কেউ কেউ এও বলছেন, এখন এসব সেন্টিমেন্ট নিয়ে বসে থাকার সময় নয়। ছ'মাস পর বাংলায় ভোট। ওটাই এখন পাখির চোখ।
বাংলা থেকে মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করার পাশপাশি দু'জনকে কেন্দ্রীয় সম্পাদক করেছে বিজেপি। এক, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট ও বোলপুরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা। প্রসঙ্গত, অনুপমকে গত লোকসভায় যাদবপুরে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীর কাছে হারতে হয় তাঁকে।
যদিও এই রদবদলকে.স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুকুল রায়, রাজু বিস্ট এবং অনুপম হাজরাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা দেওয়ায় বাংলা বিজেপি.সমৃদ্ধ হবে বলেই মনে করেন তিনি।
তবে রাহুল সিনহা এখন কী করেন সেটাই দেখার।