দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল হলেই বাড়ির পুরুষরা বেরিয়ে পড়ছেন ইঁদুর ধরতে। ঘরে খাবারের অভাব। তাই খিদে মেটাতে এখন ইঁদুরের ওপরেই ওঁরা ভরসা করছেন।
রমইগড়া হল পুরুলিয়ার কেন্দা থানা এলাকার চিপিদা-ভাণ্ডারপুয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক শবরটোলা। এখানে উনচল্লিশটি শবর পরিবারের বসবাস। জীবিকা বলতে জঙ্গলের কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করা কিংবা বাঁশ ও তালপাতার সামগ্রী তৈরি করা। বনে যাওয়া এখন বন্ধ। বন্ধ রয়েছে বাজার দোকানও। টাকাপয়সাও নেই। ঘরে খাবারের নিত্য অভাব। তাই ইঁদুর ধরছেন খিদে মেটানোর জন্য।
করোনা সতর্কতার জেরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। জীবন ও জীবিকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে পৃথিবীর অন্যতম আদিম জনগোষ্ঠী শবর জনজাতির মানুষজনের। লকডাউনের ফলে এখন তাঁদের পেটে টান ধরেছে। পনেরো দিনেও মেলেনি সরকারি সাহায্য। রেশন পাননি বলেও আশপাশের লোকজন জানাচ্ছেন। ওঁরা নিজেরা অবশ্য কোনও অভিযোগ করছেন না। ওঁরা বেঁচে আছেন নিজেদের মতো করে।
এলাকার এক সিভিক ভলান্টিয়ার নাম লিখে নিয়ে গেছেন বেশ কয়েকদিন আগেই কিন্তু তারপরেও রেশন বা সরকারি সাহায্য মেলেনি। এলাকার কয়েক জন ব্যক্তি ও দু’একটা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁদের সাধ্যমতো খাদ্যসামগ্রী। তাতে এতদিন চালানো সম্ভব নয়। চলছে না বলেই ওঁদের এখন ইঁদুর ধরে খেতে হচ্ছে।
পুরুলিয়া ১-এর বিডিও দিব্যজ্যোতি দাস বলেন, “পঞ্চায়েত থেকে সাহায্য করা হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও ওঁদের সাহায্য করেছে। কেন ওঁরা রেশন পাননি সেই দিকটা আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চিন। চিনে প্রকাশ্য বাজারে নানা প্রাণীর মাংস যে ভাবে বিক্রি হয় এদেশে তেমন ভাবে হয় না ঠিকই তবে যে সব অঞ্চলে খাবারের অভাব রয়েছে সেই সব অঞ্চলে এখনও বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়ার চল রয়েছে। মেঠো ইঁদুর থেকে বোলতার শূককীট – কিছুই বাদ নেই তাঁদের খাদ্যতালিকায়।