
শেষ আপডেট: 5 March 2020 07:59
সিঁড়িতে সার দিয়ে সাজানো থাকে পড়ুয়াদের জুতো[/caption]
এই স্কুলে পঠনপাঠনের ধরনও আলাদা। বইয়ে ছবি দেখিয়ে নয়, ছোটদের হাতেকলমে চিনিয়ে দেওয়া হয় কোনটা কী গাছ, কোন মাছের কী নাম, কোনটি কোন ফুল, কোন ফল, কোন আনাজ। প্রত্যন্ত জায়গায় স্কুলছুটের সংখ্যা যেখানে প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ সেখানে এই স্কুলে অনেক ছাত্রছাত্রীই সারা বছরে এক দিনও স্কুল কামাই করে না।
প্রধান শিক্ষক বললেন, “আমি এখানে পুরস্কার চালু করেছি। যে সব ছাত্রছাত্রী মাসে প্রতিদিন স্কুলে আসবে তারা মাসের শেষে পুরস্কার পাবে। হতে পারে সেটি দু’টাকার কলম বা পাঁচটাকার খাতা। বছরের প্রত্যেক দিন হাজিরা থাকলে বিশেষ পুরস্কার, সঙ্গে বিশেষ পুরস্কার পাবেন তাদের মা-বাবাও। তিন বছর টানা উপস্থিত থাকলে তাদের রুপোর পদক দেওয়া হবে।” বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০৭।
[caption id="attachment_192883" align="aligncenter" width="606"]
স্কুলে রয়েছে ফুলের বাগান[/caption]
ছাত্রছাত্রীদের বসার ধরণও অন্যরকম। ইউ আকৃতিতে তারা বসে যাতে শিক্ষকরা প্রত্যেকের কাছে যেতে পারেন সহজেই।
মিডডে মিলের জন্য এই স্কুলে কার্যত কোনও সব্জি কিনতে হয় না। মাঠের এক দিক জুড়ে রয়েছে সবজির বাগান, সেখানে ফলে নানান সব্জি। আর একদিকে রয়েছে বাহারি ফুলের বাগান। স্কুল প্রাঙ্গণে রয়েছে আম, কাঁঠাল, লাউ, পেঁপে প্রভৃতি নানা গাছ। কখনও কোনও আনাজ উদ্বৃত্ত হলে সেগুলি দিয়ে দেওয়া হয় নিকটবর্তী স্কুলে, একেবারে বিনা পয়সায়। খরাপ্রবণ এই জেলায় এক ফোঁটা জলও যাতে নষ্ট না হয়, সেকথা চিন্তাভাবনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাত ধোয়ার জল পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছেন।
বিডিও সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, “স্কুলের প্রধান শিক্ষক শরৎচন্দ্র প্রামাণিক একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। আমরা ১০০ দিনের কাজের আওতায় ও পঞ্চায়েতের বিশেষ ফান্ড দিয়ে চৌবাচ্ছা করে দিয়েছিলাম। ওঁরা সেই জায়গায় হাত ধোয়ার জল পরিশ্রুত করে ফেলে তা মাছচাষ ও অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।”
[caption id="attachment_192888" align="aligncenter" width="612"]
মাঠের এক দিক জুড়ে রয়েছে সবজির বাগান, সেখানে ফলে নানান সব্জি[/caption]
এমন সুন্দর করে বিদ্যালয় গড়ার পিছনে প্রধান অবদান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরৎচন্দ্র পরামাণিকের। সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরে শিক্ষক পদে যোগ দেওয়া অমিত চৌধুরী বললেন, “আমি সেনা থেকে অবসর নিয়ে এখানে এসেছি। এখানে এসে সেই সেনার নিয়মানুবর্তিতা ফিরে পেয়েছি।”
নগরায়ন আর ব্যস্ততার যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে হাডুডু, কবাডি, গাধা পেটাপেটি, রুমাল চোর, লুকোচুরি, কানামাছি-সহ বহু গ্রামীণ খেলা। এই বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা অবশ্য এখনও কিত কিত খেলে, এখনও খেলে বাঘবন্দি খেলা। নিয়মিত ব্রতচারী প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে এই বিদ্যালয়ে। শুধুমাত্র এলাকায় নয়, গোটা ব্লকের অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও লাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো করে গড়ে তুলতে চাইছে স্থানীয় প্রশাসন।