
শেষ আপডেট: 25 September 2019 12:52
মা দুর্গা মর্ত্যে আসার আগে এ বার আবহাওয়াই যেন অসুর। চলতি মরশুমে এমনিতেই দেরিতে বর্ষা এসেছে বঙ্গে। তখনই আম জনতা আশঙ্কা করেছিল যে এ বার পুজোর প্ল্যান পণ্ড হতে পারে বৃষ্টির দাপটে। আবহবিদরাও জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষভাগে যখন বাংলা থেকে বিদায় নেয় বর্ষা, তখনই ঘাটতি পূরণ করতে পারে মৌসুমি বায়ু। পুরোটা না হলেও অনেকটাই মিলে যাচ্ছে পূর্বাভাস। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই রাজ্যের উপর সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। তার প্রভাবে মহালয়া পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
হাওয়া অফিসের এই পূর্বাভাসই চিন্তা বাড়িয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের। অনেক ক্লাবই বলছে, হয়তো পিছিয়ে দিতে হবে পুজো উদ্বোধনের নির্ধারিত দিন। মহালয়ার দিন থেকেই পুজো উদ্বোধনের হিড়িক এখন কলকাতা থেকে মফঃস্বলে। কিন্তু এ বার বাধ সেধেছে টানা বৃষ্টি। অনেক জায়গাতেই মণ্ডপ নির্মাণের কাজ বেশ অনেকটাই বাকি। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারছেন ডেকরেটার্সের কর্মীরা। প্রতিমা গায়ে মাটির প্রলেপ পড়েছে বটে। তবে চড়া রোড না পেলে তা যে কী ভাবে সঠিক সময়ে শুকোবে তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন শিল্পীরা।
বৃষ্টি চলছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই দুই বাংলায় চিত্রটা প্রায় একই। এমনিতেই সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার বহু এলাকাই লো ল্যান্ড। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমা কোনও নতুন ঘটনা নেই। চলতি বছরেও তেমনটাই হয়েছে ডায়মন্ড হারবার, রায়দিঘী, নামখানা, কাকদ্বীপ, লক্ষ্মীকান্তপুর, জয়নগর এইসব এলাকায়। লক্ষ্মীকান্তপুরের একটি পুজোয় দেখা গিয়েছে মণ্ডপের মধ্যেই জমেছে জল। মহিলা পরিচালিত ওই পুজোতে মণ্ডপ থেকে জল সরানোর কাজে মাঠে নেমেছেন স্থানীয়রাই।
উত্তরবঙ্গের মালদাতেও চলছে বৃষ্টি। বিগ বাজেটের পুজোগুলোতে থমকে গিয়েছে কাজ। অর্ধসমাপ্ত কাজ কোনওরকমে ত্রিপল ঢাকা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। একই ছবি প্রতিমা নির্মাণের জায়গাতেও। খড়ের কাঠামোয় সদ্য মাটি লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। তারপরেই নেমেছে বৃষ্টি। জলের হাত থেকে প্রতিমা বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন শিল্পীরা। অনেক জায়গাতেই বাইরে থেকে কাজ করতে এসেছেন শ্রমিকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের কাজে। ফলে সময়ে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিল্পী থেকে ক্লাবকর্তা সকলেই।
সকলের ভরসা এখন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে হাওয়া অফিসের রিপোর্টের উপর নজর রাখছেন পুজো আয়োজকরা। মা দুর্গার কাছে সকলের এখন একটাই প্রার্থনা, তাড়াতাড়ি কমে যাক বৃষ্টি।