ক্যানিং থানার পুলিশের সাহায্যে বাড়িতে ফিরল জীবনতলার ছোট্ট সাহেবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিংয়ে আচমকা হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট সাহেবাকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ। সোনারপুরে পিসির বাড়ি যাওয়ার সময় শুক্রবার সকালে জীবনতলার মৌখালির বাসিন্দা সাহেবা হারিয়ে গিয়েছিল। ভিড়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গ
শেষ আপডেট: 7 August 2020 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিংয়ে আচমকা হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট সাহেবাকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ। সোনারপুরে পিসির বাড়ি যাওয়ার সময় শুক্রবার সকালে জীবনতলার মৌখালির বাসিন্দা সাহেবা হারিয়ে গিয়েছিল। ভিড়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিল পিসির সঙ্গে।
জীবনতলা থানা এলাকার মৌখালি গ্রামের বাসিন্দা সাহেবা শেখ। বয়স বছর সাতেক। বেশ কিছুদিন ধরেই সে বায়না ধরেছিল পিসির বাড়িতে বেড়াতে যাবে। পিসির বাড়ি সোনারপুরে। লকডাউনের পর থেকে এখনও লোকাল ট্রেন চালু হয়নি। তবে সড়ক পথে যাওয়া যায়। কিন্তু সড়ক পথে তাকে সোনারপুরে পিসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনেক খরচ। ফলে দিনমজুর পরিবারের পক্ষে তা আর হয়ে ওঠেনি।
বৃহস্পতিবার সোনারপুর থেকে তার পিসি এসেছিলেন সাহেবাদের বাড়িতে। পিসিকে দেখে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভীষণ বায়না ধরে সাহেবা। শেষ পর্যন্ত সকলকে রাজি হতেই হয়। পিসির হাত ধরে যে যাত্রা শুরু করে শুক্রবার সকালে। সোনারপুর যাওয়ার জন্য মৌখালি গ্রাম থেকে মাতলা নদী পার হয়ে তারা ক্যানিংয়ে পৌঁছয়। ক্যানিংয়ে এসে আচমকা পিসির হাত ছেড়ে হারিয়ে যায় সাহেবা। পিসিকে খুঁজে না পেয়ে ছোট্ট সাহেবা ক্যানিংয়ের মাতলা ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার ধারে বসে কাঁদতে থাকে। ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিক বিকাশসিন্ধু বিশ্বাস ও সিভিক ভলান্টিয়ার বিপ্লব প্রামাণিক। তাঁরা সাহেবাকে কাঁদতে দেখে কী হয়েছে জানতে চান।

তাকে জল, বিস্কুট প্রভৃতি দিয়ে কান্না থামান। খাবারও কিনে দেন। রাস্তা থেকে তুলে থানায় নিয়ে যান। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক নিজেদের হেফাজতে রেখে বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। খোঁজ খবর শুরু করেন। কোনও কিছুর খোঁজ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ নিরুপায় হয়ে ক্যানিং থানায় শিশুটিকে হস্তান্তর করেন।
এদিকে সাহেবার পিসিও নিজের ভাইঝিকে কোথাও না খুঁজে পেয়ে ক্যানিং থানার দ্বারস্থ হন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রাস্তা থেকে পুলিশ সাহেবাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। ভাইঝিকে ফিরে পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন সাহেবার পিসি।
ক্যানিং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিতকুমার হাতি বলেন, “রাস্তা থেকে বছর সাতেকে একটি শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার বাড়ির লোকজন থানায় এসেছিলেন। শিশুটিকে তার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”