দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইকে চেপে এসে পেছন থেকে গুলি করে দুষ্কৃতী। পর পর পাঁচটা গুলিই ফুঁড়ে দেয় বুক-পিঠ। নিপুণ নিশানায় লক্ষ্যভেদ করে শুটার। বিরাটির তৃণমূল কর্মী শুভ্রজিৎ দত্ত খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতের নাম ত্রিদ্বীপ দাস ওরফে দিবাকর দাস। নিমতা আর দাসপাড়ার বাসিন্দা এই ত্রিদ্বীপ। পুলিশ জানিয়েছে, এই দিবাকর স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুলালের ঘনিষ্ঠ। বাবুলালের সঙ্গে দিনকয়েক আগেই ঝামেলা হয়েছিল শুভ্রজিতবাবুর। এই অশান্তির কারণেই খুন কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিরাটির বণিক মোড়ে গত ২১ জুলাই দুষ্কৃতীর গুলিতে খুন হন শুভ্রজিৎ। রাত ১০টা নাগাদ দলীয় কার্যালয়ে থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাইকে চেপে এসে তাঁকে গুলি করে পালায় এক দুষ্কৃতী। পুলিশ জানাচ্ছে, পর পর পাঁচটা গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল শুভ্রজিতবাবুকে। একসঙ্গে পাঁচটা গুলিই সঠিক নিশানা করেছিল সেই দুষ্কৃতী। এর থেকেই বোঢা যাচ্ছে, শার্প শুটারকে দিয়েই খুন করানো হয়েছিল তৃণমূল কর্মীকে। পুলিশের অনুমান, বাবুলালের নির্দেশে এই খুনের ষড়যন্ত্র করতে পারে দিবাকর। তার সঙ্গে বাবুলালের ঘনিষ্ঠতা কতটা সেটা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকার ডাকাবুকো বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে বাবুলালের। তাঁর সঙ্গে টাকাপয়সার কিছু লেনদেন ছিল শুভ্রজিতের। সেই সূত্রেই দিনকয়েক আগে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই অশান্তির কারণেই খুন হতে হয় তৃণমূল কর্মীকে। যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য এখনও পায়নি পুলিশ। ধৃতকে জেরা করা চলছে। ত্রিদ্বীপ ওরফে দিবাকরকে আজ বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০বি ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকাই থমথমে। স্থানীয় তৃণমূল সভাপতি বিধান বিশ্বাস বেলছিলেন, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি খুনের রাজনীতি করছে। এলাকা অশান্ত করার জন্যই দলীয় কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে।