দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়রে হোলি কুসুম তুলি বাবুর বাগানে/ ফুল তুলব মালা গাঁথব পরব দুজনে – জলপাইগুড়িতে হোলির তৃতীয় দিনে এই গান গেয়ে রাধাকৃষ্ণ সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সিধা তুলল কচিকাঁচারা। হারাতে বসা প্রথা নতুন করে চালু হওয়ায় খুশি গ্রামবাসীরা।
উত্তরবঙ্গে হোলি খেলা হয় তিন দিন ধরে। প্রথম দিন আবির, দ্বিতীয় দিন খুনি রং এবং এরপর তৃতীয় দিনে কাদা খেলায় মাতল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম। এই উপলক্ষে একঝাঁক কচিকাঁচার দেখা পাওয়া গেল একেবারে অন্য ভাবে। নিজেরা রাধাকৃষ্ণ সেজে, সখীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সিধে তুলল তারা। তাদের সঙ্গে থাকা একটি ঝুড়িতেও ছিল রাধাকৃষ্ণের ছবি। সিধেয় পাওয়া চাল, আলু, সব্জি এবং টাকাপয়সা দিয়ে জিনিস কিনে রাতে চড়ুইভাতি করবে তারা।
আজ কাদা খেলার ছবি দেখা গেল জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন গ্রামে। এদিন ডেঙুয়াঝাড় এলাকায় এক বাড়ির উঠোনে জল ঢেলে কাদা বানিয়ে তাতে গড়াগড়ি খাওয়ার পাশাপাশি ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নৃত্য করতে দেখা গেল বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েকে।
পরাশর মণ্ডল নামে এক যুবক বলেন, “গত দু’দিন হোলি খেলে যা আনন্দ করার করেছি। আজ তৃতীয় দিন আমাদের আসল মজা। আমরা কাদা নিয়ে খেলি। প্রতিবছর এই দিন আমরা দারুণ মজা করি।”
বৃষ্টি রায় নামে এক শিশুশিল্পীর কথায়, “আমারা চার বান্ধবী মিলে আয়রে হোলি খেলছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিধে তুলছি। রাতে আমরা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করব।”
জলপাইগুড়ি পাতকাটা কলোনির বাসিন্দা রবিন মজুমদার বলেন, “দোল উৎসব উপলক্ষে কচিকাঁচারা রাধাকৃষ্ণ সেজে আমার বাড়িতে এসে নাচ-গান করে গেল। এসব আমরাও ছোটবেলায় করতাম। আজকাল এসব তেমন একটা দেখা যায় না। আমিও এদের সিধা দিয়ে এবং দক্ষিণা দিয়ে উৎসাহিত করলাম।”