দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপিতে যোগ দিয়েই চোদ্দর ভোটে আসানসোলের প্রার্থী হয়েছিলেন গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। দোলা সেনের মতো দাপুটে নেত্রীকে হারিয়ে সাংসদও হয়েছিলেন। উনিশের ভোটেও তাঁকে আসানসোলের প্রার্থী করে বিজেপি। বাবুলের বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী করে বাঁকুড়ার বিদায়ী সাংসদ তথা সুচিত্রা কন্যা মুনমুন সেনকে। মুনমুন চোদ্দর ভোটে বাসুদেব আচারিয়ার মতো সিপিএম-এর ৯ বারের সাংসদকে হারিয়েছিলেন। তাই তাঁকে প্রার্থী করার পর রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন ছিল, মুনমুনের ক্যারিশমার কাছে হারতে হতে পারে বাবুলকে। ভোটের দিন বিজেপি প্রার্থীর ছোটাছুটি দেখে অনেকের মনে হয়েছিল, এই গুঞ্জন সত্যিও হতে পারে। তবে ভোটগণনা শুরু হতেই দেখা গেল অন্য ছবি। সহজেই মুনমুনকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে গেলেন বাবুল।
বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বাবুলের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি সরগরম। প্রচারপর্বে বারবার তৃণমূলের বিদ্রুপের সামনে পড়তে হয়েছে বাবুলকে। রাণীগঞ্জ, জামুড়িয়া, কুলটি, বারাবনিতে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থী। কোথাও তাঁর পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে, তো কখনও তৃণমূল অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষে ইন্ধন জুগিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যেই রাজ্য বিজেপির তরফে একটি গান প্রকাশের পর এই তরজা আরও চরমে ওঠে। কমিশনের তরফে শো'কজ করা হয় বাবুলকে। তারপর একাধিকবার বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল। তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন দাবি করেছেন, তিনি বাসুদেব আচারিয়াকে হারিয়েছেন। তাই বাবুলকে হারানো তাঁর কাছে কঠিন নয়। অন্যদিকে নিজের প্রচারে বাবুল বারবার বলেছেন, তিনি নয়, তাঁর কাজ কথা বলবে। নিজের পাঁচ বছরের সময়কালে তিনি যা কাজ করেছেন, তাতেই ৭৫ শতাংশ প্রচার হয়ে গিয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ প্রচার তাঁকে করতে হবে।
ভোটের দিন সকালে অবশ্য দেখা যায় একটু অন্য রকমের ছবি। সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরেছেন বাবুল। কখনও প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, তো কখনও পুলিশের সঙ্গে। বাবুলের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। শাসক দলের তরফে অভিযোগ করা হয়, বাবুলই গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে দেখা যায়, একটু বেলার দিকে দু'একটা বুথে ঘুরছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, বেড টি দিতে দেরি হওয়ায় তাঁর উঠতে দেরি হয়েছে।
দুই প্রার্থীর এই দুই রূপ দেখে মনে হয়েছিল, নিজের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত মুনমুন। অন্যদিকে চাপে রয়েছেন বাবুল। কিন্তু ভোটবাক্স খুলতেই দেখা গেল অন্য ছবি। প্রথম থেকেই মুনমুনের থেকে লিড নেন বাবুল। যত রাউন্ড এগোয় লিড বাড়তে থাকে। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়ে মুনমুন বলেন, তিনি ভাবতেই পারছেন না কীভাবে এই ফল হচ্ছে।
বাবুলের জয়ের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এ বারের নির্বাচনে শুধুমাত্র তারকা প্রার্থী দাঁড় করিয়েই ভোটে জেতার ফর্মুলা বদলে গিয়েছে। তারমধ্যে এ বারেও দেশজুড়ে মোদীঝড় উঠেছে। দেশের ট্রেন্ডই সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছে। মানুষ চাইছেন এমন প্রার্থীকে যিনি কাজ করবেন। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর মুনমুন সেনের শরীরী ভাষা তাঁকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। তার বদলে বাবুলের উপরেই ফের আস্থা রেখেছেন আসানসোলের মানুষ।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/hard-work-main-factor-in-victory-claims-locket/