দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে এক রোগীর মৃত্যুর পরেই আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে তাঁকে ভর্তি না নিয়ে দু’ঘণ্টা ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অন্তত চল্লিশ মিনিট পরে অ্যাম্বুল্যান্সে শুধুমাত্র জ্বর পরীক্ষা করে ফেলে রাখা হয় রানিগঞ্জ থেকে আনা ওই রোগী। তারও দেড় ঘণ্টা পরে সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের বাসিন্দা মহম্মদ শামিমকে ইএসআই হাসপাতাল থেকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছিল। পরিবারের লোকেরা তাঁকে নিয়ে যান আসানসোলের সেনরেলে রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে পৌঁছে নিয়মমাফিক তাঁরা রেফার কাগজ দেখান হাসপাতালের নির্দিষ্ট কাউন্টারে। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, এরপরে হাসপাতালের গড়িমসিতে অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে প্রায় দু'ঘণ্টা মিনিট বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকেন মহম্মদ শামিম।
এর পরে ওই রোগীর পরিবারের একান্ত অনুরোধে এক চিকিৎসক এসে অ্যাম্বুল্যান্সেই তাঁকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করে তিনি জানান ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একথা শুনে তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ।
মৃতের ভাগ্নে সৈয়দ আব্দুর রহমান বলেন, “দেড় ঘণ্টা আগে রেফার করা হয়েছিল। ওঁরা আগেভাগে রেফারেল কাগজটা নিয়ে নেন। প্রায় ৪০ মিনিট পরে একটা থার্মোমিটার নিয়ে আসেন। তা দিয়ে আমাদের সামনেই পরীক্ষা করেন। জ্বর ছিল না। তারপরে তাঁরা ভিতরে চলে গেলেন। কী পরামর্শ করলেন জানি না। আমরা কিছুক্ষণ পরে অ্যাম্বুল্যান্সে গিয়ে দেখি রোগী মারা গেছে। তারপরেও ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কেউ আসেননি। নিয়ে আসার অন্তত দু’ঘণ্টা পরে ডাক্তার দেখে বলেন, ‘উনি তো অনেক আগেই মারা গেছেন।’ তাই যদি হবে তা হলে ওঁকে কেন রেফার করা হয়েছিল?”
পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন পেটে জল জমে গিয়েছিল ওই রোগীর। ইএসআই হাসপাতালে এই চিকিৎসার পরিষেবা নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বেসরকারি ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে জরুরি বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোভিড রোগী না হওয়া সত্ত্বেও কেন ওই রোগীর চিকিৎসা হল না সেই প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের লোকজন।
রোগীর পরিবারের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করলে বেসরকারি ওই হাসপাতালের কোলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার নিখিলচন্দ্র দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।