দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: জগৎবল্লভপুরের ভূপতিপুরের রায়পাড়ায় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদের জেরে সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক যুবকের। তাঁর নাম অধীর রায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন জন।
অভিযোগ, বুধবার রাতে রায়পাড়ায় বাসিন্দা রাজু রায় ও তার পরিবারের কয়েক জন মিলে চড়াও হয় রাজুর খুড়তুতো ভাই অধীরের ওপর। তাঁকে লাঠি বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। অধীরকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তাঁর মা ও দুই ভাই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় অধীরের। মৃত্যুর খবর আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্তরা।
ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে। খুনের মামলাও শুরু করেছে পুলিশ। চলছে তদন্ত।
মৃতের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, সম্পত্তি দখল করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অধীরের কাকার ছেলেরা ঝামেলা করছিল। বুধবার পেঁপে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিবাদ চরমে ওঠে। মৃতের ভাই প্রবীর রায় বলেন, “আমাদের বাস্তু ভিটে নিয়ে ঝামেলা। সেখানে যে দরজা আছে তা ওরা ছাড়েনি এমনকি সেখানে থাকা পেঁপে গাছ ওরা কেটে ফেলে। আমার দাদা ও ভাই নিষেধ করেছিল বলে লাঠি, শাবল নিয়ে মারধর করে কুপিয়ে মেরেছে। রাজু রায়, প্রকাশ রায়, সুভাষ রায়, প্রকাশ রায়। পরে ওদের মা প্রতাপের স্ত্রীও যোগ দেয়।” তিনি জানান বাম আমলে প্রকাশদের মা সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন। তবে এখন তাঁরা সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিনা সেকথা তিনি বলতে পারেননি। এ ব্যাপারে তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় শঙ্করহাটি ২ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ বরকতুল্লা বলেন, “যখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল তখন থেকেই আমরা সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেছি থানায় গিয়ে। কিন্তু তা হয়নি। সিপিএম যাওয়ার পরে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। তখনও আমরা ওদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারিনি। বুধবার একটা ছোট পেঁপে গাছ কাটা নিয়ে ঝামেলা হয়। সেখান থেকে এত বড় ঘটনা। আমার কাছে যখন খবর যায় তখন আমি মনে করি যে ছোটখাট ঝামেলা। পরে জগৎবল্লভপুর হাসপাতাল থেকে জানতে পারলাম গোয়ালপাড়া থেকে হাওড়ায় রেফার করে। সাড়ে পাঁচটা থেকে ছটার মধ্যে অধীর মারা যায়। তখন আমরা থানায় জানাই।”
জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।