দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর মরশুমেও সরকারি হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালরাজ। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে হাতেনাতে পাকড়াও এক যুবক। সূত্রের খবর, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে রোগীকে বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার সময় দালাল সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিশ কর্মীরা।
জানা গিয়েছে, আসানসোল থেকে রেফার হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আসেন বছর তেইশের টিপু সুলতান। ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে তাঁর। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁকে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করেন। কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ নেয় রোগীর পরিবার।
সেই সময়েই এই রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে আলাপ হয় এক যুবকের। পুলিশ সূত্রে তার নাম হৃদয় দত্ত। কলকাতায় না গিয়ে বর্ধমানেই একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার কথা বলে ও যুবক। এমনকি হৃদয় নামের ওই যুবক এও বলে যে নার্সিংহোমে ভর্তির জন্য সঙ্গে সঙ্গে টাকাপয়সাও দিতে হবে না এবং বেশ কম খরচেই নাকি চিকিৎসা হবে। রোগীর পরিবারের রীতিমতো জোরাজুরি করতে শুরু করে হৃদয় নামের ওই যুবক। ব্যাপারটা নজরে আসায় সন্দেহ হয় হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ ক্যাম্পে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। তারা ওই যুবককে আটক করে বর্ধমান থানায় পাঠায়। পুলিশ সূত্রে খবর, আটক হওয়া যুবকের বাড়ি ব্যান্ডেলে। সে বর্ধমান হাসপাতালের পাশের অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডের ড্রাইভার বলে জানা গিয়েছে।
রোগীর স্ত্রী সাহেবা খাতুনের কথায়, "আমারা ওনার থেকে কোনও সাহায্য চাইনি। উনি নিজেই এসে আলাপ করেন। কলকাতা না যাওয়ার কথা বলতে থাকেন বারবার। এখানকার নার্সিংহোমে ভর্তির জন্য জোরাজুরি করতে শুরু করেন। উনি বলেন যে কলকাতায় বেড পাওয়া যাবে না, ভাল চিকিৎসা হবে না। আমরা বারবার বলি যে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডাক্তারবাবুরা বলেছেন দ্রুত কলকাতায় নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু উনি ক্রমাগত বলতে থাকেন এখানকার নার্সিংহোমে ওনার চেনাজানা আছে। এখানেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। এরপর পুলিশ এসে ওকে ধরে নিয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে এভাবে দালালের পাল্লার পড়ব সত্যিই ভাবিনি।"