দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালে দাঁড়িয়েও ঝাড়ফুক! চূড়ান্ত কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে মৃত্যু হল এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তাঁর স্ত্রী।
মঙ্গলবার রাতে বসিরহাটের মাটিয়া থানা এলাকায় এক দম্পতিকে সাপে কামড়ায়। হাসপাতালের বদলে ওঝার কাছে নিয়ে যান বাড়ির লোক। বুধবার শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় সফিকুল দাফাদার নামের ওই ব্যক্তির। তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিবিকেও সাপে কামড়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে বসিরহাট মহকুমা হাসপাতালে।
জানা গিয়েছে মঙ্গলবার রাতে মশারির ভিতর শুয়ে ছিলেন সফিকুল ও খাদিজা। মশারির ভিতরে কখন সাপ ঢুকেছিল তাঁরা খেয়াল করেননি। এরপর হঠাৎই চিৎকার করে ওঠেন খাদিজা। আলো জ্বালিয়ে সফিকুল দেখেন একটি কেউটে সাপ কুণ্ডুলি পাকিয়ে রয়েছে মশারির কোণে।
সাপ দেখেই ছেলেদের ডাকেন সফিকুল। অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী। প্রথমে খাদিজা বিবিকে নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার বাড়ি। সঙ্গে যান সফিকুলও। কিছুক্ষণ পর থেকে সফিকুলও অসুস্থ বোধ করেন। বোঝা যায় সফিকুলকেও কামড়েছিল সাপটি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত চলে ঝাড়ফুক। শেষপর্যন্ত ওঝার বাড়িতেই মৃত্যু হয় সফিকুলের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সফিকুলের স্ত্রী খাদিজা বিবিকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
সফিকুলের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে মাটিয়া থানা এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে। সফিকুলের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।
এই নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমঞ্চের সদস্য রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের। এত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকতে এখনও কেন মানুষ ওঝা-তান্ত্রিকের কাছে যাচ্ছে তা ভাববার বিষয়। সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো একটা মানুষের প্রাণ এ ভাবে যেত না।” তাঁর বক্তব্য, কুসংস্কারের বশবর্তী হয়েই এই ঘটনা ঘটেছে। গ্রামাঞ্চলে আরও বেশি করে সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।