বালির নিশ্চিন্দায় উত্তর আমেরিকার উড ডাক, ছবি তুলতে ভিড় পক্ষীপ্রেমীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: পরিযায়ী পাখিদের আসার সময় নয়। তা ছাড়া তারা আসে দল বেঁধে। তবে শ্রাবণের শেষবেলায় হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দায় আচমকাই দেখা মিলেছে একটি নর্থ আমেরিকান উড ডাকের। একে ক্যারোলিনা ডাকও বলা হয়। উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশি বর্ণময়
শেষ আপডেট: 10 August 2020 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: পরিযায়ী পাখিদের আসার সময় নয়। তা ছাড়া তারা আসে দল বেঁধে। তবে শ্রাবণের শেষবেলায় হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দায় আচমকাই দেখা মিলেছে একটি নর্থ আমেরিকান উড ডাকের। একে ক্যারোলিনা ডাকও বলা হয়। উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশি বর্ণময় পাখি এটাই।
হাওড়ার নিশ্চিন্দা ঘোষপাড়ার বাগপুকুরে কয়েক দিন আগে হঠাৎই দেখা যায় একটি বর্ণময় হাঁস চরে বেড়াচ্ছে। লোকমুখে একথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। প্রথমে মোবাইল ফোনে শুরু হয় পাখিটির ছবি তোলা। খবর পেয়ে এখানে আসতে শুরু করেন পক্ষীপ্রেমীরাও। তাঁরাও বিভিন্ন দিক থেকে এই পাখির ছবি তুলতে শুরু করে দেন।
বিশ্বজিৎ দাস নামে এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কিছুদিন ধরেই পাখিটিকে পুকুরের জলে দেখা যাচ্ছিল। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমতে শুরু করেছে পুকুর পাড়ে। কিন্তু এই পাখি এল কী ভাবে?
প্রীতম চট্টোপাধ্যায় নামে এক পাখিপ্রেমী জানান, “আমেরিকা মহাদেশ ছাড়া এই পাখি সচরাচর অন্য কোথাও দেখা যায় না। পরিযায়ী হিসাবে এলেও দল বেঁধে এরা আসে। একা কখনও আসে না। আমার মনে হয় পাখিটিকে কেউ লুকিয়ে কোথায় রেখেছিল অথবা পুষেছিল। সেখান থেকে কোনও ভাবে এটি পালিয়ে এসেছে।”

খবর পেয়ে বন দফতরের লোকজনও ঘটনাস্থলে চলে আসেন। বন দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে আপাতত নজর রাখা হচ্ছে পাখিটির শরীরের দিকে। অসুস্থ না হলে এখানেই ইচ্ছে মতো থাকবে এই নর্থ আমেরিকান উড ডাক। কোনও ভাবে পাখিটিকে বিরক্ত না করার জন্য বন দফতরের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজে থেকেই পাখিটির উপরে নজর রাখা শুরু করেছেন। রাতেও তাঁরা পাখিটির দিকে নজর রাখছেন যাতে তার কোনও ক্ষতি না হয়, মানুষ তো বটেই, অন্য কোনও প্রাণীও যাতে তার ক্ষতি না করতে পারে।
এই পাখি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর উপকূলে দেখা যায়। আশপাশে ঝোপ রয়েছে এমন হ্রদ ও খাঁড়ি তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান। স্ত্রী-পাখি সাত থেকে পনেরোটি ডিম পাড়ে তবে তারা ৩০টি ডিম রাখার মতো বাসা বানায়। ফলে একটি বাসায় একাধিক পাখি ডিম পাড়ে। এর ফলে অনেক সময়ই ডিম নষ্ট হয়ে যায়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েই জলে নেমে পড়ে। তাদের মা তাদের কিন্তু জলে নামতে কোনও সাহায্য করে না। তারা সাঁতার কেটে নিজেদের খাবারের সন্ধান নিজেরাই করে।