দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল কিশোরীর বিকৃত ঘনিষ্ঠ ছবি। অভিযোগ, পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি। কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তারা। অবশেষে আত্মঘাতী হয়েছে একদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই তাদের মেয়ে এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপমানে, লাঞ্ছনায় আত্মঘাতী হয়েছে কিশোরী।
এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার শ্যামনগরে। জগদ্দল থানার অধীনে থাকা আদিবাসী এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মঘাতী ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে গত ৬ নভেম্বর বেশ কিছু বিকৃত ছবি এসেছিল। ছবিতে দেখা যাওয়া মেয়েটির সঙ্গে মুখের আদলে হুবহু মিল ছিল ওই ছাত্রীর। সঙ্গে সঙ্গেই জগদ্দল থানায় যায় ছাত্রীর পরিবার। পুলিশকে কিশোরী বারবার জানায় যে এই মেয়ে সে নয়। কোনওভাবে কম্পিউটারে গ্রাফিক্সের সাহায্যে সুপার ইম্পোজ করে এই ছবি বানানো হয়েছে। তারপর তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেনি ওই কিশোরী বা তার পরিবার। তবে কেউ যে ইচ্ছে করে জেনেবুঝে এমন কাজ করেছে সে কথা পুলিশকে জানায় তারা।
আত্মঘাতী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কথা শুনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। দায়সারা ভাবে এড়িয়ে গিয়েছিল। কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি তাদের অভিযোগে। অপরাধীদের খুঁজে বের করার বদলে পুলিশ কর্তব্যে গাফিলতি করেছে, এমন অভিযোগই এনেছে মৃতার পরিবার। আর পুলিশের এমন আচরণের কারণেই কিশোরী আত্মঘাতী হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
জানা গিয়েছে, গারুলিয়া গার্লস স্কুলের ছাত্রী ছিল এই কিশোরী। আজ সকালে তার দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। শেষ পর্যন্ত, সেদিন ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিককে কর্তব্যে গাফিলতির জন্য উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হব, প্রয়োজনে সাসপেন্ড করা হবে, এইসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে জগদ্দল থানার পুলিস।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতার পরিবার এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে তারা। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত রয়েছে তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা।