দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় বেরোনোর পর যাতে দলের কোনও স্তরের কোনও নেতা মুখ না খোলেন, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে বর্ধিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের নেত্রী বলেছেন, যা বলার তিনি বলবেন। আর কেউ যেন স্পর্শকাতর এই বিষয় নিয়ে কোনও কথা সংবাদমাধ্যমে না বলেন।
আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার আগে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় শোনাবেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অযোধ্যা মামলার রায়। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিভিন রাজনৈতিক দলের নেতারা মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, রায় যাই হোক না কেন, শান্তি যেন বজায় থাকে। এদিন বহুজন সমাজবাদী সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অযোধ্যায় আজ থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে ১২ হাজার পুলিশ।
এদিন মমতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থেকে সমস্ত নেতাই শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। আমিও তাই বলছি। আগে দেখি কী রায় হচ্ছে, তারপর যা বলার বলব।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই সময়ে তাঁর কর্মসূচিও রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠকের সূচি করা রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি কী হয় তা দেখে নিয়েই ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে যাবেন কিনা তা ঠিক করবেন।
এদিন দলের বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নেতাদের আলটপকা মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন দিদি। নেত্রীর ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। রবিবাবুর উদ্দেশে বলতে গিয়েই সবাইকে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের সামনে এত কথা বলার কী আছে!” ওই কথা বলতে গিয়েই অযোধ্যা প্রসঙ্গ টানেন মমতা। স্পষ্ট বলে দেন কেউ যেন কিছু না বলেন।
অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয় সে ব্যাপারে দলের সমস্ত স্তরের নেতাকে সতর্ক করে দেন মমতা। একই সঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্ম দিবসে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকে নিজেদের এলাকায় কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে হবে।