রফিকুল জামাদার
২১ জুলাই। সন্দেহ নেই আবেগের টানেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষাধিক তৃণমূল সমর্থক ওই দিন ধর্মতলামুখী হন ফি বছর। নেত্রী দিশা দেন পরবর্তী লড়াইয়ের। কিন্তু এবার?
কোভিড সংক্রমণের কারণে নিষিদ্ধ যে কোনও ধরনের জমায়েত। সারা দেশের মতো ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে রাজ্যেও। ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে এমন সম্ভবনা প্রায় ক্ষীণ। তাই বিকল্প কী ধরনের কর্মসূচি তৃণমূল কংগ্রেস নেবে তা এখনও ঠিক হয়নি বলেই সোমবার নবান্নে জানান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মধ্যে আলোচনা করে পরে তা ঘোষণা করা হবে বলে জানান দিদি।
ইতিমধ্যেই ই-ব়্যালি করা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। গতকাল, রবিবার বিহার দিয়ে সেই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলা বিজেপির ডাকে ভার্চুয়াল জনসভায় বক্তৃতা করবেন অমিত শাহ। এদিন মমতা বলেন, "ও সব ভার্চুয়াল-ফার্চুয়াল বুঝি না। আমরা এমনিতে ভিডিও কনফারেন্স করছি। সেটা চলবে। তবে বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব়্যালি করছে। আমাদের এত টাকা কোথায়?"
সামনের বছর বাংলায় বিধানসভা ভোট রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ভোট হলে কুড়ি সালের ২১ জুলাই-ই ভোটের আগে শেষ শহিদ দিবস। অনেকের মতে, সেদিক থেকে দেখতে গেলে এবারের সমাবেশের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। যেমন উনিশের লোকসভার আগে ১৮ সালের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার স্লোগান ছিল, বাংলায় বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ।
১৯৯৩ সালে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মহাকরণ অভিযান হয়েছিল। সেখানেই বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশের গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল ১৩ জন তরতাজা যুব কংগ্রেস কর্মীর। তারপর থেকে প্রতিবছরই ধর্মতলায় সমাবেশ করেছেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার পর ২১ জুলাই তৃণমূলেরই কর্মসূচি হয়ে যায়।
প্রশাসনিক বৈঠকের বাইরে দলের জেলাসভাপতিদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করছেন তৃণমূল নেত্রী। দুদিন আগেই সেই বৈঠক সেরেছেন তিনি। শাখা সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্স করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তবে ২১ জুলাই কী ধরনের কর্মসূচি তৃণমূল নেয় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল থাকছেই।