
শেষ আপডেট: 25 December 2018 15:56
টুইটে কী লিখেছেন কংগ্রেস সভাপতি?
মূলত একটি সর্বভারতীয় ইংরাজি দৈনিকের প্রতিবেদনের লিঙ্ক শেয়ার করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই প্রতিবেদনে ছিল, পুদুচেরিতে দলের কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই এক বুথস্তরের বিজেপি কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগের সুরে বলেন, “আপনার সরকার শুধু মধ্যবিত্তদের উপর করই চাপায়। কোনও প্রকল্প নেয় না।” প্রতিবেদনে ওই দৈনিক লিখেছে, মোদী তো এই প্রশ্নের উত্তর দেনইনি, উপরি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলেছেন, ‘ভানাক্কাম পুদুচেরি’ (নমস্কার পুদুচেরি)। লিঙ্কের সঙ্গে রাহুল খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “ভানাক্কাম পুদুচেরি। সাংবাদিক সম্মেলন তো ছেড়েই দিন। মোদী এখন দলের কর্মীদের প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারছেন না।”
এখন অনেকেই বলতে পারেন, এই টুইটে তো সূর্যবাবু লাইক দিতেই পারেন। তাতে আর রাজনৈতিক জল্পনার কী আছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আলবাত আছে। কেন? তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো প্রায়ই মোদী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে টুইট করেন। কই সূর্যবাবু বা তাঁর পার্টির কেউ তো তাতে লাইক দেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বাংলায় ঘোষিত অবস্থান তৃণমূল এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে। এমনকী তাঁরা মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধিতা আসলে ‘ছদ্ম বিরোধিতা।’ সিপিএম তো বলেই, গত ১২ ডিসেম্বর উপচে পড়া ধর্মতলার সমাবেশ থেকে কংগ্রেসও মমতা এবং মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করে, একা লড়ার ডাক দিয়েছে।
এমনিতে ষোলোর ভোটে বাম-কংগ্রেসের জোট নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। বাংলার সিপিএম নেতারা আগ বাড়িয়ে জোট করতে গিয়ে কড়া ধমক খেয়েছিলেন পলিটব্যুরোর। তাই এ বার বঙ্গ সিপিএম পষ্টাপষ্টি দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে বলে দিয়েছে, আপনি কথা বলুন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। বুঝিয়ে দিয়েছে, আলিমুদ্দিন রাজি বিধানভবনের হাত ধরতে। কিন্তু কংগ্রেস এত কথা শুনতে রাজি নয়। আবদুল মান্নানরা বলতে শুরু করে দিয়েছেন, “বাহানা ছেড়ে সিপিএম বলুক, তারা জোট করবে কি না।” আর এমন পরিস্থিতিতে বড়দিনে রাহুলের টুইটে সূর্য মিশ্রর লাইকে বড় ইঙ্গিতই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।