লালবাগে প্রসূতির মৃত্যু: গাফিলতি মানলেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকর্তা, ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হোক, চান আত্মীয়রা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালবাগ হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে পথে নামলেন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে রাতভর পথে নে
শেষ আপডেট: 11 February 2020 06:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালবাগ হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে পথে নামলেন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে রাতভর পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান মৃতের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে সোমবার লালবাগ শহর পরিক্রমা করে বিক্ষুব্ধ জনতা, শেষে মুর্শিদাবাদ থানায় গিয়ে স্মারক লিপি প্রদান করে। পরে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এই ব্যাপারে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি ওই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দেখি যে ওই চিকিৎসকের গাফিলতি রয়েছে এবং এর আগেও ওই চিকিৎসকের অবহেলার কারণে একজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। এসব জানিয়ে আজই আমি স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে লালগোলা থানার উত্তর সুদর্শনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শতাব্দী দত্ত রায় ভর্তি হন লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে। প্রসূতির পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্তব্যরত স্টাফ-নার্স একাধিক বার ওই দিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বাসব সাহাকে খবর দেন (কল বুক)। অভিযোগ, ওই কল বুকে সাড়া না দিয়ে টেলিফোনেই সংশ্লিষ্ট স্টাফ-নার্সকে কয়েকটি ওষুধ বলে দেন ও রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে স্টাফ-নার্স ওই প্রসূতির উপরে ওষুধগুলি প্রয়োগ করেন ও অক্সিজেন দিতে শুরু করেন। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছটফট করতে করতে শনিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ মৃত্যু হয় শতাব্দীর।
এই ঘটনায় লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল জুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। দিনভর হাসপাতালের সুপারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান মৃতের আত্মীয় স্বজন। পরে সন্ধ্যা নাগাদ বাসব সাহাকে হাসপাতালে হাজির করতে বাধ্য হন হাসপাতালের সুপার অভিজিৎ দেওঘরিয়া।
বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল জুড়ে বিক্ষোভ দেখালেও সরকারি জিনিসপত্র নষ্ট করেননি। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসককে হাতের নাগালে পেয়ে তাঁকে শিক্ষা দিতে মৃতদেহের পাশাপাশি রজনী গন্ধার মালা পরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর গলাতেও।
চিকিৎসকের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করে মুর্শিদাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের দাদা বাবুসোনা দত্ত। মৃতের ছবি নিয়ে জন মত গঠন করতে মুর্শিদাবাদ শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে এবং এই দাবিতে মুর্শিদাবাদ থানায় স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। শেষে মহকুমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় আইনজীবী, শিক্ষামহল এবং স্থানীয় যুবসমাজ। আইনজীবী নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, “চিকিৎসকের গাফিলতিতে এক জন প্রসূতি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এর সুবিচার চেয়ে আমরা পথে নেমেছি। এর পর প্রশাসন কী করে দেখার পরে ফের বৃহস্পতিবার থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামা হবে।”