দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট চাওয়ার কতই না কৌশল হতে পারে! সে ব্যাপারে নতুন নজির গড়লেন আসানসোলের তৃণমূল প্রার্থী তথা মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেন। শুক্রবার একটি প্রচারসভা থেকে মুনমুন জোড়া ফুলের জন্য ভোট চাইলেন তাঁর মা সুচিত্রা সেনের নাম করে। জনতার কাছে শ্রীমতী দেববর্মা তথা মুনমুনের আবেদন, তাঁর মায়ের আত্মার শান্তির জন্য তৃণমূলকে ভোট দিন।
শুক্রবার সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। মুনমুন বলেন, “আজকে আমার মায়ের জন্মদিন। ঘরে না গিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। তোমরা বলো, তৃণমূলকে একটা ভোট দেবে। আমার মায়ের আত্মার শান্তির জন্য জোড়া ফুলকে ভোট দাও। তাঁর মেয়ে এসেছে তোমাদের কাছে। তাঁর নাম রাখতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখতে।” এরপর মুনমুন বলেন, “আমার টাকা পয়সার দরকার নেই। যা টাকা পাব, সব দিয়ে দেব তোমাদের কাজের জন্য।”
গতবার জেতা সাংসদকে এ বার হারা আসনে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-র দখলে থাকা আসানসোল কেন্দ্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মমতার সৈনিক মুনমুন। রাত দিন এক করে প্রাণপাত পরিশ্রম করছেন রিয়া-রাইমার মা। এর আগেও বারবার মনে করিয়েছেন তিনি সুচিত্রা সেনের মেয়ে। এ বার সরাসরি মায়ের ‘আত্মার শান্তির জন্য’ ভোট চাইলেন সুচিত্রা-কন্যা।
ভোট ঘোষণার আগে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে যখন গুঞ্জন চলছিল, তখন অনেকেই মনে করেছিলেন এ বার আর দিদি মুনমুন সেনকে দাঁড় করাবেন না। এ ব্যাপারে তৃণমূলের প্রাক্তন এক রাজ্যসভার সাংসদ ঘরোয়া আড্ডায় বলেছিলেন, “তেমনটা হওয়া মুশকিল। দিদি যখন ফাইনাল তালিকা রেডি করবেন, তখন মুনমুনের নাম বাদ দিতে গিয়েই ওঁর চোখের সামনে সুচিত্রার মুখটা ভেসে উঠবে। আর কাটতে পারবেন না।” হয়েছেও তাই। তবে কেন্দ্র বদল করেছেন মমতা।
পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই প্রশ্ন, “আর কোনও ভাবে কিছু হচ্ছে না বলেই কি প্রয়াত সুচিত্রাকে টেনে আনলেন মুনমুন?” রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, আসানসোল আসন তৃণমূলের পক্ষে সত্যিকারেরই চাপের। একদিকে দলের ভিতরকার দ্বন্দ্ব, অন্য দিকে গত পাঁচ বছরে সাংসদ হিসেবে বাবুলের কাজ। তা ছাড়া অনেকের এও বক্তব্য, চোদ্দর ভোটে যখন মুনমুনকে বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল, তখন সুচিত্রার মৃত্যু মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। পাঁচ বছর পর আর সেটা নেই। একই সঙ্গে বাঁকুড়ার মতো গ্রামীণ আসনে এটা যতটা ফ্যাক্টর ছিল, আসানসোলের মতো হিন্দিভাষী অধ্যুষিত এবং শিল্পাঞ্চলে ততটা প্রভাব ফেলবে না।
মুনমুনের এই কথা শুনে বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, “সুচিত্রা সেন সকলের শ্রদ্ধেয় অভিনেত্রী। তাঁকে এ ভাবে রাজনৈতিক ময়দানে নামিয়ে মুনমুন আসলে নিজের মাকেই অপমান করেছেন।” তাঁর কথায়, “এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এখন তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভোট টানতে পারছে না। তাই সুচিত্রা সেনকে টেনে আনতে হচ্ছে। বসিরহাট থেকে অনেক দূরে উত্তরবঙ্গে প্রচারে নিয়ে যেতে হচ্ছে নুসরত জাহানকে।”