দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের সকালে ঘুমই ভাঙল না মুন মুন সেনের! মুড অফ নিয়ে অনেক বেলায় ভোট দেখতে বেরোলেন আসানসোল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। তাই সকাল থেকে কী হয়েছে সে ব্যাপারে কিচ্ছুটি তাঁর জানা নেই বলে দাবি করলেন সুচিত্রা-কন্যা।
প্রথম তিন দফায় বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু চতুর্থ দফায় বাংলা ফিরে গিয়েছে বাংলাতেই। প্রথম পাঁচঘণ্টাতে ঘটে গিয়েছে একাধিক হিংসার ঘটনা। সকাল থেকেই আসানসোল লোকসভা উত্তপ্ত। বারাবনিতে ‘আক্রান্ত’ হতে হয়েছে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়কে। শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভাঙা হয়েছে গাড়ির কাচ। কিন্তু এ সব নাকি কিছুই জানেন না তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, “আমার বেড টি দিতে দেরি করেছে। তাই ঘুম ভাঙেনি! কী করব বলুন! আমি কিচ্ছু জানি না! কিচ্ছু না!”
সকাল থেকে বাবুল যেখানে গিয়েছেন, সেখানেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিনি। জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তাবলয়। তা সত্ত্বেও ভাঙচুর হয় গাড়ি। কমিশন রিপোর্ট চায়। এডিজি (আইন শৃঙ্খলা)-র কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়। কিন্তু মুনমুন জানেনই না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নিজের দলের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ শুনলে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কথাই বলেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু মুনমুন তেমন পোড় খাওয়া রাজনীতিক নন। তাই তাঁর যুক্তিও তেমন পোড় খাওয়া হয়নি। শেষে কী না বেড টি! অনেকের মতে, মুনমুনের এই না জানার ঘটনা প্রথম নয়। এ তো নয় গণ্ডগোল। এর আগে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় বিধানসভায় গিয়ে বলে ফেলেছিলেন, “প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভট দিতে এসেছি।” রাষ্ট্রপতি আর উপরাষ্ট্রপতি গুলিয়ে একেবারে গ করে ফেলেছিলেন তৎকালীন বাঁকুড়ার সাংসদ!” তারপর বুঝতে পেরে বলেছিলেন, “ওহ! সো সরি!”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুনমুনকে হয়তো দলীয় নেতারাই বলে দিয়েছেন আপনি হটেল থেকে সকালে বেরবেন না। অনেকের মতে, মুনমুন কোনও ফ্যাক্টরই নন। ওখানে তৃণমূলের তরফে ভোটের দায়িত্বে মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং আসানসোলের মেয়র জিতেন তিওয়ারি। কিন্তু মুনমুনের এই যুক্তিতে হাসির রোল উঠেছে তৃণমূলকর্মীদের মধ্যেও।