
শেষ আপডেট: 1 November 2019 10:31
ছোট থেকেই যাত্রাপ্রেমী স্বপনবাবু। আগে নিয়মিত অভিনয়ও করতেন। কিন্তু ইদানিং একে দায়িত্ব, তায় স্বাস্থ্য, এই দুইয়ের চাপে অভিনয় করা বড় একটা আর হয়ে ওঠে না। বছর দুয়েক আগে বর্ধমান উৎসবেও মঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। এ বার অনেকদিন পরে আবার পালার টানে মঞ্চে উঠেছেন তিনি। তবে সামাজিক পালা নয়, স্বপনবাবুকে টানে পৌরাণিক পালাই। জানালেন, যাত্রাপালা নিয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষের একটা আলাদা টান রয়েছে । কিন্তু নানা কারণে এখন গ্রামীণ এলাকায় যাত্রা পালা আর সে ভাবে হতে দেখা যায় না । প্রায় ষোলো বছর হল শ্রীরামপুরে কোনও যাত্রাপালাই হয়নি। তাই যাত্রাশিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যাত্রাশিল্পকে চাঙ্গা করতে অনেক পরিকল্পনা নিয়েছেন। একে আঁকড়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। সরকারের উদ্যোগে যাত্রা শিল্পের সুদিন যে ফিরছে তার প্রমাণ করছে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়।’’
এক সময়ে গ্রামে কোনও অনুষ্ঠান মানেই বসতো যাত্রাপালার আসর। দুর্গাপুজো থেকে লক্ষীপুজো কিংবা কালীপুজোয় যাত্রা শিল্পীদের নাওয়া খাওয়ার সময় থাকতো না। সে সব এখন ইতিহাস। বদলে গেছে মানুষের রুচি। তারসঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে গত এক দশকে ছোট বড় বহু অপেরা দলের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন শিল্পীরা। অনেকে পেটের টানে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাই গ্রাম বাংলার মানুষের একসময়ের খুব কাছের এই শিল্প এখন ধুঁকছে। বায়না নেই, কাজ নেই। চলছে চরম সংকট। মন্ত্রী অবশ্য এ বার অভিনয় করছেন চিৎপুরের শ্রীচৈতন্য অপেরায়। তাঁদেরই পালা ‘গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম’।
একেধারে রাজ্যের মন্ত্রী। হাতে অনেকগুলি দফতরের দায়িত্ব। আবার জেলায় দলের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। এত সবের পরও যাত্রাপ্রেমিক পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথ। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যদি সুদিন ফেরানো যায় যাত্রার। সখের যাত্রা আসরেও তাঁর পেশাদারিত্বে মুগ্ধ দর্শকরা। সে তালিকায় নাম রয়েছে জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জীরও।