
শেষ আপডেট: 13 October 2018 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড় জোর দু’বছর।’
একবিংশ শতাব্দীতে?
১৩ অক্টোবর ২০১৭। কাক ভোর। দার্জিলিং-এর পাতলেবাস। পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর, বিমল গুরুং ঘাঁটি গেড়েছেন পাতলেবাসের জঙ্গলে। ঘিরে ফেলে পুলিশ। পালাতে থাকে ওরা। হাতেই ছিল অর্ডার। দেখলেই গুলি। তাই করেছিলেন মধ্যগ্রাম থেকে উর্দির দায়িত্ব পালন করতে পাহাড়ে যাওয়া সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিক। কিন্তু গুরুংবাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলেন অমিতাভ। মধ্যমগ্রামে ফিরেছিল অমিতাভর কফিনবন্দি দেহ।
আজ এক বছর। কেমন আছেন অমিতাভর বাবা-মা? কেমন আছেন অমিতাভর স্ত্রী বিউটি?
মধ্যমগ্রামে অমিতাভর বাবা-মা’র এখন শুধুই হাহাকার। একদিকে সন্তান শোক। আর অন্যদিকে বউমার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সংবাদ মাধ্যমে সেদিন তরুণী বিউটির কান্না দেখে চোখে জল এসেছিল অনেকেরই। কফিনের উপর আছাড়িপিছাড়ি খাচ্ছেন তরুণী বিউটি। বিমানবন্দর থেকে মধ্যগ্রামে অমিতাভর পাড়ায় তাঁর মরদেহ গেছিল জনপ্লাবনে ভেসে। গান স্যালুট দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল শহিদ অমিতাভ মালিককে। এই উৎসবের সময়েও আলো নেই অমিতাভর বাবা-মায়ের মনে। আক্ষেপ একটাই। এখনও শাস্তি পেল না তাঁর ছেলের খুনিরা।
আরও পড়ুন: বাঘা বাইনের ঢাকের বোল মন টানে না আর, অন্ধকার কল্যাণগড়গত বছর ১৩ অক্টোবরের কয়েক দিন পরেই ছিল দীপাবলী। ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল ছেলের। কিন্তু তা আর হয়নি। ফিরেছিল নিথর দেহ।
সরকার চাকরি দিয়েছে অমিতাভর স্ত্রীকে। কিন্তু তারপর আর শ্বশুরবাড়ির দিকে ফিরে তাকাননি বিউটি। এমনটাই অভিযোগ অমিতাভর বাবা-মায়ের। পুলিশ ডিপার্টমেন্টেই চাকরি হয়েছে বিউটির। মাঝে মাঝে তাঁকে দেখা যায় বারাসত পুলিশ লাইনে দফতরের কাজে যেতে। কিন্তু অমিতাভর ভাই বলছেন, “বউদি রাস্তায় দেখা হলেও কথা বলেন না!”
বিউটি অবশ্য আজকাল সংবাদমাধ্যমের কাছে একদমই মুখ খুলতে চান না। আর বিশেষ এই দিনটি নিয়ে তাঁর মন্তব্য, এটা তাঁর জীবনে 'সর্বণাশের' দিন। তাই কিছু বলার নেই।