দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের আগে কংগ্রেস যে সিপিএমের সঙ্গে জোটে রাজি তা পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান। তবে একই সঙ্গে মান্নান সাহেব সোমবার জানিয়ে দিলেন, সিপিএমের গড়িমসিতে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছে তাঁদের। তাঁর কথায়,“প্রকৃতই জোট চাইলে সিপিএম নেতারা বাহানা ছাড়ুক। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর সঙ্গে আলোচনায় বসুন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।
উনিশের ভোটে বাংলায় কংগ্রেসের কৌশল কী হবে তা নিয়ে আলোচনার জন্য গত শনিবার দিল্লিতে সোমেন মিত্রকে বৈঠকে ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সূত্রের মতে, ওই বৈঠকে সোমেনবাবু রাহুলকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাংলায় কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ভাবেই জোট চান না। রাহুলকে একই কথা জানান, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে বাংলার পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ। তিনি রাহুলকে জানান, বাংলায় তৃণমূল যে রকম অত্যাচার করছে কংগ্রেসের উপর তার পর আর ওদের সঙ্গে সখ্যের প্রশ্নই ওঠে না। বরং বামেদের সঙ্গে জোটের ব্যাপারে রাহুলের কাছে তাঁদের আগ্রহ জানান সোমেন-গৌরব। তবে রাহুল বলেন, ওঁদের তো নিজেদেরই ঠিক নেই। ওঁরা আগে ঠিক করুক কী করবেন!
রাহুলের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই সোমবার আবদুল মান্নান বলেন, “আমরা এখনও বলছি তৃণমূলের সঙ্গে কোনও জোট করব না। কিন্তু সিপিএমকেও বুঝতে হবে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জোট হয় না। মানুষের সামনে খোলাখুলি কথা বলতে হবে।” কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রস্তাব নিয়ে বারবারই আপত্তি তুলছেন ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো বামফ্রন্টের ছোট শরিক দলগুলি। তাদের নাম না করে এ দিন মান্নান সাহেব বলেন, কয়েকটা দল রয়েছে বামফ্রন্টের, যাদের অস্তিত্ব নেই, তারা বাধা দিচ্ছে। আর সিপিএম তাতেই বাহানা করছে। এ বার একটা সিদ্ধান্ত নিক। এ দিন দুপুরেই সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের আলোচনায় বসেছিলেন বিরোধী দলনেতা।
২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়েছিল সিপিএমের। ভোটে ৭৭ টি আসন জিতেছিল জোট। কিন্তু ভোটের পর সিপিএমের নেতাদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের কর্মী সমর্থকরা কংগ্রেসের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু কংগ্রেসের সমর্থকরা সিপিএম প্রার্থীকে ভোট দেননি। পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, জোটকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আগে থেকে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার ছিল। কিন্তু জোট ঘোষণার পরেও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদমাধ্যমে নানান কটূক্তি করেন জোট নিয়ে। এর পর কংগ্রেসের সমর্থকরা সিপিএম প্রার্থীকে ভোট দিতে চাইবেন? কেবল তাই নয়, সিঙ্গুরের সভায় যখন অধীর চৌধুরী বক্তৃতা দিচ্ছেন, তখন দূরে চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করছিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। অধীর মঞ্চ থেকে নামলে তবে তিনি সভায় যাবেন। কংগ্রেসের প্রশ্ন ছিল, এ ভাবে জোট হয়?
তা যে হয় না তা সিপিএমের অনেক নেতাই বুঝতে পারছেন। সোমবার সকালে প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী তথা বর্ষীয়াণ নেতা নিরুপম সেনের মৃত্যুর পর জোট প্রশ্নে দলের কোনও নেতা মুখ খোলেননি ঠিকই। তবে সিপিএম সূত্র জানাচ্ছে, সীতারাম, সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী এঁরা সবাই জোটের পক্ষে।
তবে গোটা ব্যাপারটিকেই এ দিন বাস্তব সম্মত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, সিপিএম-কে যদি জোট করতে হয়, তা হলে এখনই বলুক। কারণ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে যৌথ ভাবে গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এবং খোলাখুলি হাতে হাত মিলিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অনেকে মনে করছেন, উনিশের ভোটে বাংলায় কংগ্রেস-সিপিএম জোট হলে সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশে তাঁরা ভাগ বসাতে পারবেন। মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, রায়গঞ্জ, জঙ্গিপুর, মালদহের দুটি আসন সহ অন্তত ১৫ টি আসনে তখন লড়াইয়ে থাকবে জোট।
তবে তৃণমূলের নেতৃত্বের বক্তব্য, কংগ্রেস-সিপিএমের জোট হলে তাঁদের ভালই হবে। তখন বিরোধী ভোট ভাগাভাগিতে বাংলায় ৪২টি আসনের অধিকাংশেই সহজে জিতবে তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-k-chandrasekhar-rao-is-coming-to-meet-mamata-banerjee-about-federal-front/