দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: কোয়ারেন্টাইনে থাকার মতো জায়গা ঘরে নেই। অগত্যা নির্মল বাংলা প্রকল্পে নির্মিত শৌচালয়কেই সাময়িক আস্তানা বানালেন পুরুলিয়ার যুবক।
মাঠের মধ্যে অপরিসর শৌচালয়। মাথার উপর প্লাসটিক। খড় দিয়ে কোনওমতে করা হয়েছে দরজা। তলা দিয়ে বেরিয়ে থাকে পা। এই অবস্থাতেই পরিবারের থেকে নিজেকে আলাদা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই যুবক। কারও উপর কোনও ক্ষোভ নেই। অভিযোগও নেই। শুধু পরিবারের সবার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানালেন বান্দোয়ানের কুচিয়া গ্রামের সড়পপাড়ার বাসিন্দা মহাদেব সিং।
সড়পপাড়ার মহাদেব সিং কাজ করতেন হাওড়ার আন্দুলের একটি বেত কারখানায়। বান্দোয়ানের মোট চারজন যুবক কাজ করতেন সেখানে। লকডাউন ঘোষণার বেশ কিছুদিন পর চারটি সাইকেল করে আটজন রওনা দিয়েছিলেন বাড়ির পথে। বান্দোয়ানে পৌঁছানোর পর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তাঁরা। তারপর চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রামে ফিরে এসে আলাদা থাকতে শুরু করেন।
গ্রামের অদূরে মাঠের উপর বাঁশ, প্লাসটিক দিয়ে অস্থায়ী আস্তানা তৈরি করেন তাঁরা। কিন্তু চার-পাঁচদিন আগে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে সেই প্লাস্টিক উড়ে যায়। বাধ্য হয়ে যে যার বাড়ি ফিরে আসেন। মহাদেবও বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু একটা মাত্র ঘরে বাবা, স্ত্রী, এক মেয়ে এবং দুই বোন থাকে। তাঁদের কী করে বিপদের মধ্যে ফেলবেন? পরিবারের থেকে আলাদা থাকার আর দ্বিতীয় কোনও উপায় না পেয়ে বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত শৌচালয়ে আশ্রয় নেয়।
মহাদেবের বাবা লবিন সিং বলেন, ‘‘ঘরে আলাদা থাকার জায়গা নেই। কিন্তু আমাদের সবার যদি বিপদ হয়, সেই ভেবে বাড়ির কাছে শৌচালয়ে থাকছে। সেখানেই স্নান-খাওয়া সবকিছু। বাড়ির লোক দূরে জল, খাবার সব নামিয়ে রেখে আসে। এভাবেই চলছে।’’
আগামী তিন-চার দিন এই শৌচালয়ের মধ্যেই নিজেকে বন্দি রেখে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখবেন মহাদেব। পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামের এই শ্রমিকের এমন সচেতনতার খবর কিন্তু এখনও পৌঁছয়নি প্রশাসনের কাছে।